ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি

blank

পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগণনা শেষে ফলাফল প্রকাশিত হলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। বরং তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি অন্তত একশোটি আসন ‘লুট করে নিয়েছে’।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল চারটায় মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জী কলকাতার কালীঘাটে একটি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। সেখানে কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘পরাজিত করা হয়েছে’—সে ব্যাখ্যাও তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছে দলীয় সূত্র।

তবে নির্বাচনে জনগণের রায়ে পরাজয় মেনে নিতে এখনো অনাগ্রহী তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই বড় পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

নারী ভোটব্যাংকে ভাঙন
দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবার সেই সমর্থনে ফাটল দেখা গেছে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’ বা ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প জনপ্রিয়তা পেলেও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে আরজিকর ঘটনার মতো আলোচিত ইস্যু ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব (এসআইআর)
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের ফলে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়েছে। এতে তৃণমূল কংগ্রেস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এতে ভুয়া ও মৃত ভোটারও বাদ পড়েছে, তবু এর রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট।

দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং কর্মসংস্থানের অভাব—এসব অভিযোগ তৃণমূল সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভোটের আগে ভাতা চালু করেও জনগণের অসন্তোষ কমানো যায়নি।

ধর্মীয় মেরুকরণ
রাজ্যের মুসলিম ভোটের বড় অংশ এতদিন তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবার হিন্দু ভোটের বড় ধরনের সংহতি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এর সুফল পেয়েছে বিজেপি। এমনকি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেও তারা আসন পেয়েছে।

শাসক দলের সুবিধা না পাওয়া
নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল এবং বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—এসব কারণে তৃণমূল কংগ্রেস অতীতের মতো প্রশাসনিক সুবিধা পায়নি। ফলে নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

যে কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি

যে কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি

প্রকাশের সময় : ৭ মিনিট আগে
blank

পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগণনা শেষে ফলাফল প্রকাশিত হলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। বরং তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি অন্তত একশোটি আসন ‘লুট করে নিয়েছে’।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল চারটায় মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জী কলকাতার কালীঘাটে একটি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। সেখানে কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘পরাজিত করা হয়েছে’—সে ব্যাখ্যাও তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছে দলীয় সূত্র।

তবে নির্বাচনে জনগণের রায়ে পরাজয় মেনে নিতে এখনো অনাগ্রহী তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই বড় পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

নারী ভোটব্যাংকে ভাঙন
দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবার সেই সমর্থনে ফাটল দেখা গেছে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’ বা ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প জনপ্রিয়তা পেলেও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে আরজিকর ঘটনার মতো আলোচিত ইস্যু ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব (এসআইআর)
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের ফলে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়েছে। এতে তৃণমূল কংগ্রেস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এতে ভুয়া ও মৃত ভোটারও বাদ পড়েছে, তবু এর রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট।

দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং কর্মসংস্থানের অভাব—এসব অভিযোগ তৃণমূল সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভোটের আগে ভাতা চালু করেও জনগণের অসন্তোষ কমানো যায়নি।

ধর্মীয় মেরুকরণ
রাজ্যের মুসলিম ভোটের বড় অংশ এতদিন তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবার হিন্দু ভোটের বড় ধরনের সংহতি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এর সুফল পেয়েছে বিজেপি। এমনকি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেও তারা আসন পেয়েছে।

শাসক দলের সুবিধা না পাওয়া
নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল এবং বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—এসব কারণে তৃণমূল কংগ্রেস অতীতের মতো প্রশাসনিক সুবিধা পায়নি। ফলে নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।