ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কী কারণে সিনেমায় আর গান গাইবেন না অরিজিৎ সিং!

blank

বলিউড ও টালিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক বা চলচ্চিত্রের গান গাওয়া থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল ‘Atmojoarjalojo’ থেকে দেওয়া এক বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি।

 

সবার অগোচরে নিভৃতে থাকা এই শিল্পী ওই পোস্টে অত্যন্ত বিনম্র ভাষায় তার বিদায়বার্তা প্রকাশ করেন।

 

অরিজিৎ জানিয়েছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের এই সফর ‘অসাধারণ’ ছিলো, তবে এখন তিনি একজন ‘ক্ষুদ্র শিল্পী’ হিসেবে নতুন কিছু শিখতে চান এবং নিজের মর্জিতে সঙ্গীতচর্চা করতে চান।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সঙ্গীত জগত থেকে তিনি পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। প্লেব্যাক বন্ধ করলেও স্বতন্ত্র সঙ্গীত এবং কম্পোজিশনের কাজ চালিয়ে যাবেন। বর্তমানে হাতে থাকা আগের চুক্তিবদ্ধ গানগুলোর কাজ তিনি শেষ করবেন। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের বেশ কিছু চলচ্চিত্রে এখনও তার কণ্ঠ শোনা যাবে, জানান তিনি।

 

‘হিন্দুস্তান টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অরিজিৎ সিংয়ের এই ঘোষণাটি অনেকটা বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার মতোই আকস্মিক। ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের আবেগ প্রকাশ করছেন। অনেকে লিখেছেন, ‘বলিউডের একটি যুগের অবসান ঘটলো।’

 

২০২৫ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত শিল্পী হিসেবে তার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লাইমলাইট থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করা এই শিল্পী সম্ভবত এখন তার শৈল্পিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব মিউজিক লেবেলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন।

 

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক দিন চর্চা ছিলো- অরিজিৎ সিং কি কিংবদন্তি কিশোর কুমারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন? তবে সেই চর্চা এখানেই ক্ষান্ত হলো।

 

বিশ্লেষকদের মতে ভারতীয় সংগীত জগতের দুই ভিন্ন সময়ের দুই জাদুকর— কিশোর কুমার এবং অরিজিৎ সিং। একজন কিংবদন্তি হয়ে গেছেন, অন্যজন জীবন্ত কিংবদন্তি হওয়ার পথে। তাদের গায়কী, প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা একেক জনের জন্য একেক উচ্চতার।

 

কিশোর কুমারের জনপ্রিয়তা ছিলো নায়ককেন্দ্রিক। তিনি ছিলেন রাজেশ খান্না বা অমিতাভ বচ্চনের অনস্ক্রিন কণ্ঠ। কিশোর কুমারের গান ছাড়া সেই সময়ের সুপারস্টারদের কথা ভাবাই যেতো না।

কিন্তু, অরিজিতের জনপ্রিয়তা গানকেন্দ্রিক এবং কণ্ঠ-কেন্দ্রিক। আজকের যুগে ছবির নায়ক কে, তার চেয়ে বেশি বড় হয়ে দাঁড়ায় গানটি অরিজিতের কি না। তিনি নিজেই একজন বড় ব্র্যান্ড, যা বর্তমান সময়ের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে বিরল। তবে সেই যাত্রা এখানেই শেষ হলো।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

কী কারণে সিনেমায় আর গান গাইবেন না অরিজিৎ সিং!

প্রকাশের সময় : ০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
blank

বলিউড ও টালিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক বা চলচ্চিত্রের গান গাওয়া থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল ‘Atmojoarjalojo’ থেকে দেওয়া এক বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি।

 

সবার অগোচরে নিভৃতে থাকা এই শিল্পী ওই পোস্টে অত্যন্ত বিনম্র ভাষায় তার বিদায়বার্তা প্রকাশ করেন।

 

অরিজিৎ জানিয়েছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের এই সফর ‘অসাধারণ’ ছিলো, তবে এখন তিনি একজন ‘ক্ষুদ্র শিল্পী’ হিসেবে নতুন কিছু শিখতে চান এবং নিজের মর্জিতে সঙ্গীতচর্চা করতে চান।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সঙ্গীত জগত থেকে তিনি পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। প্লেব্যাক বন্ধ করলেও স্বতন্ত্র সঙ্গীত এবং কম্পোজিশনের কাজ চালিয়ে যাবেন। বর্তমানে হাতে থাকা আগের চুক্তিবদ্ধ গানগুলোর কাজ তিনি শেষ করবেন। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের বেশ কিছু চলচ্চিত্রে এখনও তার কণ্ঠ শোনা যাবে, জানান তিনি।

 

‘হিন্দুস্তান টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অরিজিৎ সিংয়ের এই ঘোষণাটি অনেকটা বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার মতোই আকস্মিক। ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের আবেগ প্রকাশ করছেন। অনেকে লিখেছেন, ‘বলিউডের একটি যুগের অবসান ঘটলো।’

 

২০২৫ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত শিল্পী হিসেবে তার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লাইমলাইট থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করা এই শিল্পী সম্ভবত এখন তার শৈল্পিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব মিউজিক লেবেলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন।

 

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক দিন চর্চা ছিলো- অরিজিৎ সিং কি কিংবদন্তি কিশোর কুমারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন? তবে সেই চর্চা এখানেই ক্ষান্ত হলো।

 

বিশ্লেষকদের মতে ভারতীয় সংগীত জগতের দুই ভিন্ন সময়ের দুই জাদুকর— কিশোর কুমার এবং অরিজিৎ সিং। একজন কিংবদন্তি হয়ে গেছেন, অন্যজন জীবন্ত কিংবদন্তি হওয়ার পথে। তাদের গায়কী, প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা একেক জনের জন্য একেক উচ্চতার।

 

কিশোর কুমারের জনপ্রিয়তা ছিলো নায়ককেন্দ্রিক। তিনি ছিলেন রাজেশ খান্না বা অমিতাভ বচ্চনের অনস্ক্রিন কণ্ঠ। কিশোর কুমারের গান ছাড়া সেই সময়ের সুপারস্টারদের কথা ভাবাই যেতো না।

কিন্তু, অরিজিতের জনপ্রিয়তা গানকেন্দ্রিক এবং কণ্ঠ-কেন্দ্রিক। আজকের যুগে ছবির নায়ক কে, তার চেয়ে বেশি বড় হয়ে দাঁড়ায় গানটি অরিজিতের কি না। তিনি নিজেই একজন বড় ব্র্যান্ড, যা বর্তমান সময়ের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে বিরল। তবে সেই যাত্রা এখানেই শেষ হলো।