ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্সজুড়ে, বন্ধ হচ্ছে ৫০০ স্কুল

blank

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সে একদিনের জন্য ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব স্কুলে পাঠদান ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত’ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটির অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

গত সপ্তাহে শিক্ষার মান ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন তাঁরা।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে এনে আংশিকভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিক্ষোভে সহিংসতার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু উগ্র বামপন্থি কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

 

জেফ্রে আরও জানান, চলমান বিক্ষোভে শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শুধু শুক্রবারই দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে মোট ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে আন্দোলনের আয়োজকেরা মঙ্গলবারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ‘কংক্রিট কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানান, এর মধ্যে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করার বিষয়গুলো রয়েছে।

এ ছাড়া স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সম্পদে ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের ক্ষতিপূরণের ব্যয় দায়ী ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

জনপ্রিয় খবর

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্সজুড়ে, বন্ধ হচ্ছে ৫০০ স্কুল

প্রকাশের সময় : ১৩ ঘন্টা আগে
blank

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সে একদিনের জন্য ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব স্কুলে পাঠদান ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত’ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটির অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

গত সপ্তাহে শিক্ষার মান ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন তাঁরা।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে এনে আংশিকভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিক্ষোভে সহিংসতার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু উগ্র বামপন্থি কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

 

জেফ্রে আরও জানান, চলমান বিক্ষোভে শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শুধু শুক্রবারই দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে মোট ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে আন্দোলনের আয়োজকেরা মঙ্গলবারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ‘কংক্রিট কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানান, এর মধ্যে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করার বিষয়গুলো রয়েছে।

এ ছাড়া স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সম্পদে ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের ক্ষতিপূরণের ব্যয় দায়ী ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।