ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মফুলে ছেয়ে গেছে উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল, বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়

blank

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সোনাকান্ত বিল এখন গোলাপি ও লাল পদ্মফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। দুই বছর পর আবারও বিলজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য পদ্মফুল। পানির ওপর ভেসে থাকা সবুজ পদ্মপাতার মাঝে সারি সারি ফুটে থাকা পদ্মফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা।

উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশে অবস্থিত সোনাকান্ত বিলটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা নিচু জমি নিয়ে গঠিত। বর্ষা মৌসুমে এসব জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিলে পরিণত হয়। বছরে একবার সেখানে ইরি-বোরো ধানের চাষ হলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই জমিগুলো পানির নিচে থাকে। সড়াতৈল, আমডাঙ্গা, অলিপুর ও বাগদা গ্রামের বাসিন্দারা এসব জমির মালিক।

স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালে সোনাকান্ত বিলে কিছু পদ্মফুল ফুটেছিল। তবে সে সময় ফুলের সংখ্যা এবারের তুলনায় অনেক কম ছিল। ২০২৩ সালে বন্যা না হওয়ায় পদ্মফুলও তেমন দেখা যায়নি। চলতি বছর বন্যা না হলেও টানা বৃষ্টিতে বিলে পর্যাপ্ত পানি জমে। ফলে অনুকূল পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে পদ্মগাছ এবং পুরো বিলজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য পদ্মফুল।

সড়াতৈল মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, একসময় বিলে দু-একটি পদ্মগাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছিল। ধীরে ধীরে সেগুলো বিস্তৃত হয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২০১৪ সাল থেকে সোনাকান্ত বিলে নিয়মিত পদ্মফুল ফুটতে শুরু করেছে। যে বছর পানির পরিমাণ কম থাকে, সে বছর ফুলও তুলনামূলক কম ফোটে। এবার প্রচুর বৃষ্টির কারণে বিলে পানি জমায় পদ্মফুলের ব্যাপক সমারোহ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। তবে অলিপুর-সড়াতৈল আঞ্চলিক সড়ক থেকে বিলটির দূরত্ব মাত্র আধা কিলোমিটার হলেও সেখানে যাওয়ার ভালো কোনো রাস্তা নেই। আলপথ দিয়ে বিলপাড়ে যেতে হয়। বৃষ্টির সময় কাদাযুক্ত পথে চলাচলে দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পদ্মফুল দেখতে আসা সুমাইয়া খাতুন বলেন, চারদিকে সারি সারি গোলাপি ও লাল পদ্মফুল আর পানির ওপর ভাসমান সবুজ পাতার দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনে হচ্ছে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে অন্য এক সুন্দর জগতে চলে এসেছি। তবে ভালো রাস্তা না থাকায় যাতায়াতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

বিলের জমির মালিক বাগদা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও আমডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, প্রায় এক যুগ ধরে বর্ষা মৌসুমে এ বিলে পদ্মফুল ফুটছে। পুরো বিলজুড়ে যখন সারি সারি পদ্মফুল ফোটে, তখন এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। দূর থেকে পানির ওপর ভেসে থাকা পদ্মপাতাগুলোকে সবুজ গালিচার মতো মনে হয়।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। বিভিন্ন পাখির মাধ্যমে এর বীজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে সেই বীজ থেকে নতুন গাছ জন্ম নেয় এবং ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। দীর্ঘদিন পর এবার সোনাকান্ত বিলে ব্যাপকভাবে পদ্মফুল ফুটেছে। তিনি নিজেও বিলটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে সেখানে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে অল্প সময়ের জন্য হলেও পদ্মফুলে সেজে ওঠা সোনাকান্ত বিল এখন উল্লাপাড়ার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা নির্মাণ করা গেলে এ স্থানটি আরও জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

জনপ্রিয় খবর
blank

লালমনিরহাটে র‍্যাবের উদ্যোগে মাদকবিরোধী টাউন হল মিটিং

পদ্মফুলে ছেয়ে গেছে উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল, বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়

প্রকাশের সময় : ১০ ঘন্টা আগে
blank

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সোনাকান্ত বিল এখন গোলাপি ও লাল পদ্মফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। দুই বছর পর আবারও বিলজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য পদ্মফুল। পানির ওপর ভেসে থাকা সবুজ পদ্মপাতার মাঝে সারি সারি ফুটে থাকা পদ্মফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা।

উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশে অবস্থিত সোনাকান্ত বিলটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা নিচু জমি নিয়ে গঠিত। বর্ষা মৌসুমে এসব জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিলে পরিণত হয়। বছরে একবার সেখানে ইরি-বোরো ধানের চাষ হলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই জমিগুলো পানির নিচে থাকে। সড়াতৈল, আমডাঙ্গা, অলিপুর ও বাগদা গ্রামের বাসিন্দারা এসব জমির মালিক।

স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালে সোনাকান্ত বিলে কিছু পদ্মফুল ফুটেছিল। তবে সে সময় ফুলের সংখ্যা এবারের তুলনায় অনেক কম ছিল। ২০২৩ সালে বন্যা না হওয়ায় পদ্মফুলও তেমন দেখা যায়নি। চলতি বছর বন্যা না হলেও টানা বৃষ্টিতে বিলে পর্যাপ্ত পানি জমে। ফলে অনুকূল পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে পদ্মগাছ এবং পুরো বিলজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য পদ্মফুল।

সড়াতৈল মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, একসময় বিলে দু-একটি পদ্মগাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছিল। ধীরে ধীরে সেগুলো বিস্তৃত হয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২০১৪ সাল থেকে সোনাকান্ত বিলে নিয়মিত পদ্মফুল ফুটতে শুরু করেছে। যে বছর পানির পরিমাণ কম থাকে, সে বছর ফুলও তুলনামূলক কম ফোটে। এবার প্রচুর বৃষ্টির কারণে বিলে পানি জমায় পদ্মফুলের ব্যাপক সমারোহ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। তবে অলিপুর-সড়াতৈল আঞ্চলিক সড়ক থেকে বিলটির দূরত্ব মাত্র আধা কিলোমিটার হলেও সেখানে যাওয়ার ভালো কোনো রাস্তা নেই। আলপথ দিয়ে বিলপাড়ে যেতে হয়। বৃষ্টির সময় কাদাযুক্ত পথে চলাচলে দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পদ্মফুল দেখতে আসা সুমাইয়া খাতুন বলেন, চারদিকে সারি সারি গোলাপি ও লাল পদ্মফুল আর পানির ওপর ভাসমান সবুজ পাতার দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনে হচ্ছে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে অন্য এক সুন্দর জগতে চলে এসেছি। তবে ভালো রাস্তা না থাকায় যাতায়াতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

বিলের জমির মালিক বাগদা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও আমডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, প্রায় এক যুগ ধরে বর্ষা মৌসুমে এ বিলে পদ্মফুল ফুটছে। পুরো বিলজুড়ে যখন সারি সারি পদ্মফুল ফোটে, তখন এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। দূর থেকে পানির ওপর ভেসে থাকা পদ্মপাতাগুলোকে সবুজ গালিচার মতো মনে হয়।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। বিভিন্ন পাখির মাধ্যমে এর বীজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে সেই বীজ থেকে নতুন গাছ জন্ম নেয় এবং ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। দীর্ঘদিন পর এবার সোনাকান্ত বিলে ব্যাপকভাবে পদ্মফুল ফুটেছে। তিনি নিজেও বিলটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে সেখানে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে অল্প সময়ের জন্য হলেও পদ্মফুলে সেজে ওঠা সোনাকান্ত বিল এখন উল্লাপাড়ার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা নির্মাণ করা গেলে এ স্থানটি আরও জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।