ফেনীর দাগনভূঞায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাতনি মারা গেছে—এমন ভুল খবর শুনে শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ওই নাতনি অক্ষত অবস্থায়ই রয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামের সুতা ব্যাপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত খাইরুন নেছা ওই বাড়ির বদিউর রহমানের স্ত্রী।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সিলোনীয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন বাসের চাপায় সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া নিহত হয় এবং কয়েকজন আহত হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত একই স্কুলের শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং জান্নাতুল ফাহিমের তাৎক্ষণিক খোঁজ না পাওয়ায় এলাকায় তার মৃত্যুর ভুল সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
বাড়িতে বসে এই খবর শোনার পর নাতনির শোকে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দাদি খাইরুন নেছা। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুল ফাহিমকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পান। তবে ততক্ষণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া খাইরুন নেছাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক ইফরাদ খন্দকার জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তীব্র মানসিক আঘাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খাইরুন নেছার মৃত্যু হয়।
জান্নাতুল ফাহিমের বাবা স্বপন মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি মেয়েকে খুঁজতে সিলোনীয়া বাজারে যান। মেয়েকে কোথাও না পেয়ে কান্নাকাটি করে বাড়িতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এ সময় তার মা নাতনির শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেলেও মাকে হারাতে হয়েছে—এমনটা কখনো ভাবেননি তিনি।

অনলাইন ডেস্ক 


















