ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে শুরু জোর আলোচনা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় ফখরুল, মোশাররফ, মঈন, নজরুল ও নাসিমুল

blank

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাঁকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

এ তালিকায় রয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও একটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। যদিও দলীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অরাজনৈতিক বা আমলাপ্রধান কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সময়কার রাজনৈতিক সংকটের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিএনপি এবার রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখতে চায়।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দলের মহাসচিব হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

এ প্রসঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো বিষয়ে অবগত নন। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি তুলেছিল। তবে সাংবিধানিক জটিলতার কথা বিবেচনায় তখন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপে সম্মতি দেয়নি। নতুন করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে সেই আলোচনা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় ফখরুল, মোশাররফ, মঈন, নজরুল ও নাসিমুল

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে শুরু জোর আলোচনা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় ফখরুল, মোশাররফ, মঈন, নজরুল ও নাসিমুল

প্রকাশের সময় : ৪ মিনিট আগে
blank

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাঁকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

এ তালিকায় রয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও একটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। যদিও দলীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অরাজনৈতিক বা আমলাপ্রধান কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সময়কার রাজনৈতিক সংকটের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিএনপি এবার রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখতে চায়।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দলের মহাসচিব হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

এ প্রসঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো বিষয়ে অবগত নন। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি তুলেছিল। তবে সাংবিধানিক জটিলতার কথা বিবেচনায় তখন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপে সম্মতি দেয়নি। নতুন করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে সেই আলোচনা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে।