কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে বাঁকড়া মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) এবং জলকামান মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করে যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও শান্তিপূর্ণ দোয়া কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা কাছাকাছি একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে কলকাতার কয়েকটি এলাকায় কিছু মুসল্লিকে হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরবে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে মসজিদে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১১ জুলাই থেকে সেখানে নামাজ আদায়ও বন্ধ রয়েছে। তাদের দাবি, এ বিষয়ে আগে কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়নি।
১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের পাশাপাশি একসময় অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসতেন।
মসজিদে নামাজের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার সেখানে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করা হলেও কঠোর নিরাপত্তা ও ১৬৩ ধারা জারির কারণে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায়নি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















