ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বৈষম্য কমাতে কাজ করছে সরকার : ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন

blank

জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন খাতে বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জুলাই কেবল একটি গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়; এটি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈষম্য হ্রাসে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ পুনর্তফসিল ও ঋণসহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য ভাতা প্রদান এবং খাল পুনর্খনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগও ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।

ইউজিসির এ সদস্য আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র (এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার) এবং দেশের আট বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু চাকরির প্রত্যাশী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

তিনি আরও জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিলে সেখানে একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।

বক্তব্যের শুরুতে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

blank

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বক্তব্য দেন।

এ সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

কলকাতা বিমানবন্দরের বাঁকড়া মসজিদে নামাজ বন্ধ, ১৬৩ ধারা জারি

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বৈষম্য কমাতে কাজ করছে সরকার : ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন

প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে
blank

জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন খাতে বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জুলাই কেবল একটি গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়; এটি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈষম্য হ্রাসে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ পুনর্তফসিল ও ঋণসহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য ভাতা প্রদান এবং খাল পুনর্খনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগও ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।

ইউজিসির এ সদস্য আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র (এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার) এবং দেশের আট বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু চাকরির প্রত্যাশী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

তিনি আরও জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিলে সেখানে একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।

বক্তব্যের শুরুতে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

blank

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বক্তব্য দেন।

এ সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।