ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাসদের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

blank

স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ছাত্রনেতা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও একাধিকবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টায় রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন।

স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন খান জকি, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সেলিম, জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাজী ইদ্রিস ব্যাপারী, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাতীয় যুব জোটের সহ-সভাপতি শুভংকর দে বাপ্পা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননীসহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা বলেন, ষাটের দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে নেতৃত্বে উঠে আসা সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চু ১৯৬৯ সালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক জোট, জাতীয় শ্রমিক জোট ও জাসদের সাংগঠনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তারা প্রয়াত এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শ তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও অনুসরণ করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতি মোহ ত্যাগ করে সহজ-সরল ও সংগ্রামী জীবনযাপনের মাধ্যমে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

সভায় সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বক্তারা। তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে দেশে একটি ‘রেজিম চেঞ্জ’ সংঘটিত হয়েছে এবং এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চলছে।

এ সময় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর সমালোচনা করে বক্তারা অভিযোগ করেন, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই দেশকে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মুক্তির আন্দোলন জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

কলকাতা বিমানবন্দরের বাঁকড়া মসজিদে নামাজ বন্ধ, ১৬৩ ধারা জারি

সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাসদের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশের সময় : ৯ ঘন্টা আগে
blank

স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ছাত্রনেতা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও একাধিকবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টায় রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন।

স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন খান জকি, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সেলিম, জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাজী ইদ্রিস ব্যাপারী, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাতীয় যুব জোটের সহ-সভাপতি শুভংকর দে বাপ্পা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননীসহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা বলেন, ষাটের দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে নেতৃত্বে উঠে আসা সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চু ১৯৬৯ সালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক জোট, জাতীয় শ্রমিক জোট ও জাসদের সাংগঠনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তারা প্রয়াত এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শ তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও অনুসরণ করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতি মোহ ত্যাগ করে সহজ-সরল ও সংগ্রামী জীবনযাপনের মাধ্যমে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

সভায় সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বক্তারা। তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে দেশে একটি ‘রেজিম চেঞ্জ’ সংঘটিত হয়েছে এবং এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চলছে।

এ সময় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর সমালোচনা করে বক্তারা অভিযোগ করেন, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই দেশকে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মুক্তির আন্দোলন জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।