ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা হবে বিনামূল্যে, মেধাবীদের জন্য থাকবে স্কলারশিপ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

blank

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের মেয়েদের জন্য অনার্স পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রীদের জন্য চালু করা হবে বিশেষ স্কলারশিপ কর্মসূচি।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে যেভাবে শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড দেওয়া হচ্ছে, একইভাবে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা মেধাবী ছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুরা যেন মানবিক, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সে দায়িত্ব শিক্ষকদেরই নিতে হবে। কোনো শিশু যেন মানুষ, প্রাণী বা প্রকৃতির প্রতি নিষ্ঠুর মনোভাব নিয়ে বড় না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক প্রয়োজন। সেই মানবিক মানুষ গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের। শিশুরা মানবিক হয়ে বেড়ে উঠলে তবেই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য দেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সময় জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিষয়ক পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া তিনি প্রতিটি শিশুকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি তোমরাও বড় হবে। গাছ হবে তোমাদের বন্ধু, যা পরিবেশ রক্ষা ও জীবনে প্রশান্তি এনে দেবে।”

পরে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। স্টল পরিদর্শনের সময় শিশুদের নিজেদের বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জনপ্রিয় খবর
blank

কলকাতা বিমানবন্দরের বাঁকড়া মসজিদে নামাজ বন্ধ, ১৬৩ ধারা জারি

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা হবে বিনামূল্যে, মেধাবীদের জন্য থাকবে স্কলারশিপ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ৬ ঘন্টা আগে
blank

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের মেয়েদের জন্য অনার্স পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রীদের জন্য চালু করা হবে বিশেষ স্কলারশিপ কর্মসূচি।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে যেভাবে শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড দেওয়া হচ্ছে, একইভাবে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা মেধাবী ছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুরা যেন মানবিক, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সে দায়িত্ব শিক্ষকদেরই নিতে হবে। কোনো শিশু যেন মানুষ, প্রাণী বা প্রকৃতির প্রতি নিষ্ঠুর মনোভাব নিয়ে বড় না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক প্রয়োজন। সেই মানবিক মানুষ গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের। শিশুরা মানবিক হয়ে বেড়ে উঠলে তবেই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য দেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সময় জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিষয়ক পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া তিনি প্রতিটি শিশুকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি তোমরাও বড় হবে। গাছ হবে তোমাদের বন্ধু, যা পরিবেশ রক্ষা ও জীবনে প্রশান্তি এনে দেবে।”

পরে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। স্টল পরিদর্শনের সময় শিশুদের নিজেদের বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।