পটুয়াখালীর মহিপুর পুলিশি থানাকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ নির্দেশনার মধ্য দিয়ে কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌরসভা নিয়ে নতুন ‘মহিপুর উপজেলা‘ গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী-মহিপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে মহিপুরের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মহিপুর থানা মহিপুর সদর, ডালবুগঞ্জ, লতাচাপলী ও ধুলাসার—এই চারটি ইউনিয়ন এবং কুয়াকাটা পৌরসভা নিয়ে গঠিত।
এ অঞ্চলে দেশের অন্যতম বৃহৎ মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন অবস্থিত। পাশাপাশি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে মহিপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিপুল জনসংখ্যার প্রশাসনিক সেবার চাহিদা, মৎস্য বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা জনস্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজন।
আবেদনের পর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ (প্রশাসন) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। পত্রটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মহিপুর ও আশপাশের এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নতুন আশাবাদ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে এবং সাধারণ মানুষকে আর প্রয়োজনীয় সেবার জন্য দূরবর্তী কলাপাড়া উপজেলা সদরে যেতে হবে না।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. কালিম উল্লাহ বলেন, “মহিপুর উপজেলা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। পাশাপাশি মৎস্য বন্দর, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে যাবে।”
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, “মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করেছেন। তাঁর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। দ্রুত মহিপুরকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণা করা হলে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নও আরও গতিশীল হবে।”

অনলাইন ডেস্ক 


















