ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১১

blank

টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন, কক্সবাজার শহরে একজন, পেকুয়ায় একজন এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগরে একজন রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প, কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা, পেকুয়া এবং দরিয়ানগরে পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

একই পরিবারের সাতজনের মৃত্যু

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। পরিবারের আরও সাত সদস্য আহত অবস্থায় উদ্ধার হন।

এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

শহর, পেকুয়া ও দরিয়ানগরেও প্রাণহানি

রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে সোমবার দুপুরে পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারী নিহত এবং শিশুসহ চারজন আহত হন।

উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনের সতর্কতা

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি সবাইকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

আতঙ্কে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাহাড়ঘেরা এলাকা

টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্যাম্পবাসীদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড়ধসের ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়। বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণে তৈরি ঘরগুলো ভারি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী প্রায় তিন লাখ মানুষও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পাহাড় কাটাকে দায়ী করলেন আরআরআরসি

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ঝুঁকি বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এক ধরনের মানবসৃষ্ট হত্যাকাণ্ড।” তিনি অবৈধ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জনপ্রিয় খবর
blank

পল্লী সমৃদ্ধির প্রত্যয়ে তাড়াশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১১

প্রকাশের সময় : ৪ ঘন্টা আগে
blank

টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন, কক্সবাজার শহরে একজন, পেকুয়ায় একজন এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগরে একজন রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প, কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা, পেকুয়া এবং দরিয়ানগরে পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

একই পরিবারের সাতজনের মৃত্যু

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। পরিবারের আরও সাত সদস্য আহত অবস্থায় উদ্ধার হন।

এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

শহর, পেকুয়া ও দরিয়ানগরেও প্রাণহানি

রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে সোমবার দুপুরে পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারী নিহত এবং শিশুসহ চারজন আহত হন।

উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনের সতর্কতা

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি সবাইকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

আতঙ্কে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাহাড়ঘেরা এলাকা

টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্যাম্পবাসীদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড়ধসের ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়। বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণে তৈরি ঘরগুলো ভারি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী প্রায় তিন লাখ মানুষও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পাহাড় কাটাকে দায়ী করলেন আরআরআরসি

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ঝুঁকি বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এক ধরনের মানবসৃষ্ট হত্যাকাণ্ড।” তিনি অবৈধ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।