ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল সেবার বাইরে কোনো নাগরিক থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

blank

দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডিজিটাল সেবার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক বাদ পড়বে না।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ধরনের সরকারি ও আর্থিক সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক সহজেই এসব সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

তিনি বলেন, চলতি বাজেটে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ মানুষ— কাউকেই উন্নয়নের মূলধারা থেকে বাইরে রাখা হয়নি।

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতেও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।

বিশ্বের অন্যতম সফল ডিজিটাল রাষ্ট্র এস্তোনিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে সেখানে সফর করছে। প্রতিনিধি দলে আইসিটি উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ডিজিটাল সেবা চালু করলেই হবে না, কতজন গ্রাহক বাস্তবে সেই সেবা ব্যবহার করছেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা জনবল নিয়োগ দিয়ে অনলাইন সেবার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় উপায়ে ডিজিটাল সেবার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারেন— ঘরে বসেই সহজে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

ডিজিটাল সেবার সুফল তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে সেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের সময়, যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং, বীমা ও পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অপব্যবহার কমাতেও ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ডিজিটাল সেবার বিস্তৃত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই জনগণ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

পল্লী সমৃদ্ধির প্রত্যয়ে তাড়াশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

ডিজিটাল সেবার বাইরে কোনো নাগরিক থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
blank

দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডিজিটাল সেবার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক বাদ পড়বে না।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ধরনের সরকারি ও আর্থিক সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক সহজেই এসব সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

তিনি বলেন, চলতি বাজেটে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ মানুষ— কাউকেই উন্নয়নের মূলধারা থেকে বাইরে রাখা হয়নি।

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতেও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।

বিশ্বের অন্যতম সফল ডিজিটাল রাষ্ট্র এস্তোনিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে সেখানে সফর করছে। প্রতিনিধি দলে আইসিটি উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ডিজিটাল সেবা চালু করলেই হবে না, কতজন গ্রাহক বাস্তবে সেই সেবা ব্যবহার করছেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা জনবল নিয়োগ দিয়ে অনলাইন সেবার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় উপায়ে ডিজিটাল সেবার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারেন— ঘরে বসেই সহজে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

ডিজিটাল সেবার সুফল তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে সেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের সময়, যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং, বীমা ও পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অপব্যবহার কমাতেও ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ডিজিটাল সেবার বিস্তৃত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই জনগণ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।