ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে এমডিকে নির্যাতন করে চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার

blank

বরিশালের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান (লিটু) ও তাঁর সহযোগী আবুল কালাম আজাদ।

পুলিশ জানায়, ২৭ জুন সন্ধ্যায় আবদুল আজিজ হাওলাদারের কার্যালয়ে ঢুকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে জোরপূর্বক দুটি চেক ও দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে রোববার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে নগরের সদর রোড এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওতে যা দেখা গেছে তা সত্য। তবে তাঁর দাবি, আবাসন ব্যবসায় আর্থিক বিরোধ ও প্রতারণার অভিযোগ থেকেই তিনি ওই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে আবদুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, কয়েক মাস ধরে মোস্তাফিজুর তাঁর কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। সব হিসাব আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়ে জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এদিকে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান যুবদলের নেতা—এমন দাবি নাকচ করেছে যুবদল। বরিশাল মহানগর, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোস্তাফিজুর যুবদল, বিএনপি বা তাদের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য নন। তাঁরা ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে প্রকৃত তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’: সাহেল জোট সম্মেলনে ট্রাওরের পশ্চিমাবিরোধী বার্তা

বরিশালে এমডিকে নির্যাতন করে চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
blank

বরিশালের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান (লিটু) ও তাঁর সহযোগী আবুল কালাম আজাদ।

পুলিশ জানায়, ২৭ জুন সন্ধ্যায় আবদুল আজিজ হাওলাদারের কার্যালয়ে ঢুকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে জোরপূর্বক দুটি চেক ও দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে রোববার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে নগরের সদর রোড এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওতে যা দেখা গেছে তা সত্য। তবে তাঁর দাবি, আবাসন ব্যবসায় আর্থিক বিরোধ ও প্রতারণার অভিযোগ থেকেই তিনি ওই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে আবদুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, কয়েক মাস ধরে মোস্তাফিজুর তাঁর কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। সব হিসাব আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়ে জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এদিকে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান যুবদলের নেতা—এমন দাবি নাকচ করেছে যুবদল। বরিশাল মহানগর, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোস্তাফিজুর যুবদল, বিএনপি বা তাদের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য নন। তাঁরা ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে প্রকৃত তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।