পূর্ব চীনের সমুদ্র ও আকাশসীমায় চলতি সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া। রোববার (৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
চীনের বন্দরনগরী চিংদাও উপকূলে সোমবার (৬ জুলাই) শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। মহড়া শেষে দুই দেশের নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা করবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্যাসিফিক ফ্লিটের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে চিংদাও বন্দরে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, চীনের নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট, একটি সাবমেরিন, একটি সরবরাহ জাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মহড়ায় অংশ নেবে।
এবারের মহড়ায় শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে আকস্মিক হামলা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ মহড়া এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মাত্র দুই মাস আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন সফর করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। একইভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দুই দেশের অংশীদারিত্বকে ‘অটল ও অবিচল’ বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে ‘জয়েন্ট সি’ নামে এই যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করে আসছে। গত বছরের মহড়া রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তোক উপকূলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মহড়া শেষে সেবারও প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহল দেয় দুই দেশের নৌবাহিনী।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে চীন প্রকাশ্যে এর নিন্দা জানায়নি। বরং বেইজিং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার দাবি করে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















