ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের ৫৫ বছর পর মন্নাস আলীর পেট থেকে গুলি অপসারণ

blank

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে আহত হওয়া ৭৫ বছর বয়সী মন্নাস আলীর শরীর থেকে অবশেষে ৫৫ বছর পর গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল বিনা মূল্যে প্রায় আধা ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তাঁর পেটে থাকা গুলিটি বের করেন।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ মে দুর্গাপুর উপজেলার হরিয়াউন্দ গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার সময় পালানোর চেষ্টা করলে মন্নাস আলীর পেটে গুলি লাগে। দারিদ্র্য ও অস্ত্রোপচারের ভয় থাকায় দীর্ঘ ৫৫ বছর তিনি শরীরে গুলিটি নিয়েই জীবন কাটান।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, অর্থের অভাবে এতদিন চিকিৎসা করাতে পারেননি। পরিবারের সবার সহযোগিতায় অবশেষে গুলিটি অপসারণ সম্ভব হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, প্রায় ২ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের গুলিটি অপসারণের সময় ক্ষতস্থানে জমে থাকা পুঁজও পরিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে মন্নাস আলী সুস্থ আছেন এবং তাঁকে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়টি থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

নাটোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়  

মুক্তিযুদ্ধের ৫৫ বছর পর মন্নাস আলীর পেট থেকে গুলি অপসারণ

প্রকাশের সময় : ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
blank

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে আহত হওয়া ৭৫ বছর বয়সী মন্নাস আলীর শরীর থেকে অবশেষে ৫৫ বছর পর গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল বিনা মূল্যে প্রায় আধা ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তাঁর পেটে থাকা গুলিটি বের করেন।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ মে দুর্গাপুর উপজেলার হরিয়াউন্দ গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার সময় পালানোর চেষ্টা করলে মন্নাস আলীর পেটে গুলি লাগে। দারিদ্র্য ও অস্ত্রোপচারের ভয় থাকায় দীর্ঘ ৫৫ বছর তিনি শরীরে গুলিটি নিয়েই জীবন কাটান।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, অর্থের অভাবে এতদিন চিকিৎসা করাতে পারেননি। পরিবারের সবার সহযোগিতায় অবশেষে গুলিটি অপসারণ সম্ভব হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, প্রায় ২ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের গুলিটি অপসারণের সময় ক্ষতস্থানে জমে থাকা পুঁজও পরিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে মন্নাস আলী সুস্থ আছেন এবং তাঁকে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়টি থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।