বরিশালে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে একজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় আজিজকে ‘বাচ্চু’ নামে একজনকে ডাকতে শোনা যায়। পরে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে আরেক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেক ও স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে ছবিও তোলা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি জমি বিক্রি করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই—এ মর্মে অঙ্গীকারনামাও দিয়েছেন। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় তার কক্ষে ঢুকে মারধর করে জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই ব্যাংককে অবহিত করায় অভিযুক্তরা চেকের টাকা তুলতে পারেননি। পরে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার দিন উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন এবং আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক 


















