তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে কোনোভাবেই দেওয়া উচিত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন ও অংশগ্রহণকে অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো শান্তি উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ব্যাহত করতে ইসরাইল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঙ্কারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এরদোগান বলেন, বর্তমান ইসরাইল সরকারকে মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও যুদ্ধ ও রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা দুর্বল করার চেষ্টারও বিরোধিতা করেছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই এরদোগানের এ মন্তব্য আসে।
এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ চালু করবে তেহরান।
সমঝোতা স্মারকের প্রধান বিষয়গুলো
- ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি
- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া
- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ
- স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ
তবে সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। চুক্তির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















