ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিদের জন্য কেপ ভার্দেতে আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক

blank

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৯৬তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ব–বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স–এর সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। সেই তালিকায় বিশ্বকাপে আলোচনায় আসা আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের নামও রয়েছে।

তবে কেপ ভার্দে সরকারের বর্তমান অভিবাসন নীতিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের কেপ ভার্দেতে প্রবেশ, ট্রানজিট বা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির আগে আগাম ভিসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকেরা এখন আর আগাম ভিসা ছাড়া দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। প্রয়োজনীয় ভিসা ছাড়া পৌঁছালে প্রবেশ, ট্রানজিট কিংবা যাত্রাবিরতির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদনকারীদের নিজ দেশের নিকটবর্তী কেপ ভার্দের দূতাবাস বা কনস্যুলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বাংলাদেশি পর্যটক কাজী আসমা আজমেরী জানান, ২০২৪ সালে সেনেগালে অবস্থানকালে সেখানকার কেপ ভার্দে দূতাবাস থেকে তিনি ছয় মাস মেয়াদি ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটিতে যাওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “মালি হয়ে কেপ ভার্দে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মালিতে জ্বালানিসংকটের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কয়েক দিন আটকে থাকতে হয়। পরে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে কেপ ভার্দে যাওয়া বাতিল করি। ভবিষ্যতে আবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে।”

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের অদূরে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্র সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি এবং সঙ্গীতের জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো বিমান চলাচল করে না। সাধারণত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আদ্দিস আবাবা হয়ে সেনেগাল অথবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে দেশটিতে পৌঁছানো যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেনলি পাসপোর্ট সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হলেও বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।

জনপ্রিয় খবর
blank

উনাহির জোড়া গোলে কানাডাকে উড়িয়ে কোয়ার্টারে মরক্কো

বাংলাদেশিদের জন্য কেপ ভার্দেতে আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক

প্রকাশের সময় : ৮ ঘন্টা আগে
blank

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৯৬তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ব–বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স–এর সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। সেই তালিকায় বিশ্বকাপে আলোচনায় আসা আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের নামও রয়েছে।

তবে কেপ ভার্দে সরকারের বর্তমান অভিবাসন নীতিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের কেপ ভার্দেতে প্রবেশ, ট্রানজিট বা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির আগে আগাম ভিসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকেরা এখন আর আগাম ভিসা ছাড়া দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। প্রয়োজনীয় ভিসা ছাড়া পৌঁছালে প্রবেশ, ট্রানজিট কিংবা যাত্রাবিরতির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদনকারীদের নিজ দেশের নিকটবর্তী কেপ ভার্দের দূতাবাস বা কনস্যুলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বাংলাদেশি পর্যটক কাজী আসমা আজমেরী জানান, ২০২৪ সালে সেনেগালে অবস্থানকালে সেখানকার কেপ ভার্দে দূতাবাস থেকে তিনি ছয় মাস মেয়াদি ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটিতে যাওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “মালি হয়ে কেপ ভার্দে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মালিতে জ্বালানিসংকটের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কয়েক দিন আটকে থাকতে হয়। পরে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে কেপ ভার্দে যাওয়া বাতিল করি। ভবিষ্যতে আবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে।”

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের অদূরে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্র সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি এবং সঙ্গীতের জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো বিমান চলাচল করে না। সাধারণত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আদ্দিস আবাবা হয়ে সেনেগাল অথবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে দেশটিতে পৌঁছানো যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেনলি পাসপোর্ট সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হলেও বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।