বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি দাপুটে অধ্যায়ের জন্ম দিল মরক্কো। প্রথমার্ধে কানাডার প্রবল চাপ সামলেও বিরতির পর যেন রূপ বদলে ফেলে আফ্রিকার দলটি। আজ্জেদিন উনাহির অসাধারণ জোড়া গোল আর শেষ মুহূর্তে সুফিয়ান রাহিমির নিশ্চিত করা গোলের সুবাদে ৩-০ ব্যবধানে কানাডাকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।
ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে মরক্কো। তবে পাঁচ মিনিটের পর থেকেই খেলার ছন্দ নিজেদের দখলে নেয় স্বাগতিকদের অন্যতম কানাডা। দ্রুতগতির আক্রমণে মরক্কোর রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে উত্তর আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে মরক্কোর রক্ষণভাগের ভুলে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় কানাডা। আহমেদের নিখুঁত পাস থেকে টানি ওলুওয়াসেই নিচু শটে গোলের চেষ্টা করেন। তবে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় পা বাড়িয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন মরক্কোর নির্ভরতার প্রতীক গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

এরপর দুই দলই বল দখলের লড়াইয়ে সমানতালে লড়লেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতি শেষে যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নামে মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৫০তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের সামনে থাকা আজ্জেদিন উনাহির কাছে। সুযোগটি লুফে নিয়ে দুর্দান্ত এক মাটি কামড়ানো শটে কানাডার জালে বল জড়িয়ে মরক্কোকে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় কানাডা। কিন্তু মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সামনে বারবার থমকে যায় তাদের সব পরিকল্পনা।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন উনাহি। ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন তিনি।

এরপর যোগ করা সময়ে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজতেই ৩-০ গোলের অনবদ্য জয় নিয়ে উল্লাসে মাতে মরক্কো শিবির।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালই নিশ্চিত করেনি মরক্কো, বরং শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানেরও জোরালো বার্তা দিয়েছে আটলাস লায়ন্স। অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো কানাডার।

অনলাইন ডেস্ক 


















