পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। উপজেলার বিলচলন ইউনিয়ন কৃষক দলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিনের বাড়ি থেকে প্রায় ৫৭০ লিটার ভেজাল দুধ ও বিপুল পরিমাণ দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারসাজির সঙ্গে জড়িত আজিজল প্রামাণিক নামে একজনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পাবনার উপ-পরিচালক লুৎফল কবিরের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে নটাবাড়িয়া জোলার কান্দি গ্রামের আব্দুল মমিন এবং আল আমিনের বাড়ি থেকে ভেজাল দুধ ছাড়াও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল, ডিটারজেন্ট পাউডার, সয়াবিন তেল ও জেলিসহ দুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত আব্দুল মমিন ও আল আমিন পালিয়ে যান।
অভিযান চলাকালীন ১ নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জনতাকে উস্কানি দিয়ে ভ্রাম্যমাণ দলের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী ও চাটমোহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা ফোন ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মমিন দীর্ঘ দিন ধরে তার বাড়িতে টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে কেমিক্যাল ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ মণের বেশি বিষাক্ত এই দুধ উপজেলার বিভিন্ন সংগ্রহ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে সরবরাহ করা হতো। প্রভাবশালী ও দলীয় পরিচয়ের কারণে স্থানীয়রা এতদিন মুখ খোলার সাহস পায়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসেও মমিনের কারখানা থেকে ৭০০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি লিটন বিশ্বাস এ বিষয়ে বলেন, “মমিনকে আগেও শোকজ করা হয়েছিল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কাজে জড়িত থাকায় তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 















