ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছরেও সড়কটি মেরামত হয়নি,বড়াইগ্রামে ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ

blank

ভ্যানভর্তি পাট নিয়ে হাটে যাচ্ছিলেন কৃষক আবুল মিয়া। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের গর্তে পড়ে উল্টে যায় তার ভ্যান। ময়লা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায় কষ্টের ফসল পাট। ভেঙে যায় ভ্যানটিও। গত শুক্রবার ভোরে অন্ধকারে নাটোরের বড়াইগ্রামের নওয়াদোজোয়াড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আবুল মিয়া নওয়াদোজোয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে পাটগুলো উদ্ধার করেন তিনি। পরে সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জানান, পাট বিক্রির টাকা দিয়ে সেদিন বাজার করার কথা ছিল তার। কিন্তু ভ্যান উল্টে পাট নষ্ট হওয়ায় বাজার করা তো দূরের কথা, উল্টো টাকা ধার করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। কষ্টের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বুকভরা হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে এই কৃষককে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙাচোরা সড়কটিতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে সড়কটি মেরামত করছে না। শুধু আবুল মিয়া নন, তার মতো হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রায় এক দশক ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক মোড় থেকে শুরু হয়ে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্ত পেরিয়ে নাটোর সদর উপজেলার আহমেদপুর বাজারের মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি। এর মধ্যে বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাট থেকে আহম্মেদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ বর্তমানে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, মৌখাড়া হাট ও বনপাড়া-নাটোর মহাসড়কের কারণে সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার বহু মানুষ মৌখাড়া হাট ও নাটোর সদরে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ভাঙাচোরা অংশ গত ১০ বছরেও মেরামত করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনই সড়কটির ওপর নির্ভরশীল মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াদোজোয়াড়ি কালভার্ট থেকে আলীপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা এবং ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ভরা। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকায় কোন অংশে কতটা গর্ত বা সড়ক ভাঙা, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। এসব গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ছোট-বড় যানবাহন উল্টে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। আবার কোথাও ট্রাকের চাকা গর্তে আটকে গেলে পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপরও জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।

মৌখাড়া ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, একটি কলেজ, একটি আলিম মাদ্রাসা, তিনটি উচ্চবিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়কটির ভাঙা অংশ মেরামতের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক মানিক, ছাবিরুল, খলিল সরকার, নয়ন মণ্ডলসহ অন্তত ১০ জন জানান, গরু-ছাগল থেকে শুরু করে কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফসল মৌখাড়া হাটে বিক্রি করা হয়। কিন্তু ভাঙা সড়কের কারণে সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে সার ও বীজ পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। তাদের দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে পাকা করা সড়কটি ধীরে ধীরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে এখন কাদা-পানিতে ডুবে থাকছে। এত দীর্ঘ সময়েও সড়কটি কেন মেরামত করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তাদের।

মৌখাড়া হাটের ইজারাদার আবদুল মান্নান বলেন, গুরুদাসপুরের চাপিলা, বড়াইগ্রামের জুয়াড়ি ইউনিয়ন ও নাটোরের আহম্মেদপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতি শুক্রবার ভাঙা সড়ক দিয়ে এই হাটে আসেন। আশপাশের বড় হাট হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। প্রতি হাটে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাটে পণ্য আনা-নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তার প্রশ্ন, আশপাশের অন্যান্য সড়ক একাধিকবার মেরামত করা হলেও গত ১০ বছরে এই সড়কটি একবারও কেন মেরামত করা হয়নি।

এ বিষয়ে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার বলেন, সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ভাঙা অংশ আরসিসি ঢালাই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি মেরামত করা হবে।

blank

গাইবান্ধায় অবৈধ ইউরিয়া সার মজুত, ১৫০ বস্তা জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

১০ বছরেও সড়কটি মেরামত হয়নি,বড়াইগ্রামে ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ

প্রকাশের সময় : ৪৮ মিনিট আগে
blank

ভ্যানভর্তি পাট নিয়ে হাটে যাচ্ছিলেন কৃষক আবুল মিয়া। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের গর্তে পড়ে উল্টে যায় তার ভ্যান। ময়লা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায় কষ্টের ফসল পাট। ভেঙে যায় ভ্যানটিও। গত শুক্রবার ভোরে অন্ধকারে নাটোরের বড়াইগ্রামের নওয়াদোজোয়াড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আবুল মিয়া নওয়াদোজোয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে পাটগুলো উদ্ধার করেন তিনি। পরে সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জানান, পাট বিক্রির টাকা দিয়ে সেদিন বাজার করার কথা ছিল তার। কিন্তু ভ্যান উল্টে পাট নষ্ট হওয়ায় বাজার করা তো দূরের কথা, উল্টো টাকা ধার করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। কষ্টের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বুকভরা হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে এই কৃষককে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙাচোরা সড়কটিতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে সড়কটি মেরামত করছে না। শুধু আবুল মিয়া নন, তার মতো হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রায় এক দশক ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক মোড় থেকে শুরু হয়ে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্ত পেরিয়ে নাটোর সদর উপজেলার আহমেদপুর বাজারের মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি। এর মধ্যে বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাট থেকে আহম্মেদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ বর্তমানে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, মৌখাড়া হাট ও বনপাড়া-নাটোর মহাসড়কের কারণে সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার বহু মানুষ মৌখাড়া হাট ও নাটোর সদরে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ভাঙাচোরা অংশ গত ১০ বছরেও মেরামত করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনই সড়কটির ওপর নির্ভরশীল মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াদোজোয়াড়ি কালভার্ট থেকে আলীপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা এবং ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ভরা। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকায় কোন অংশে কতটা গর্ত বা সড়ক ভাঙা, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। এসব গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ছোট-বড় যানবাহন উল্টে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। আবার কোথাও ট্রাকের চাকা গর্তে আটকে গেলে পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপরও জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।

মৌখাড়া ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, একটি কলেজ, একটি আলিম মাদ্রাসা, তিনটি উচ্চবিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়কটির ভাঙা অংশ মেরামতের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক মানিক, ছাবিরুল, খলিল সরকার, নয়ন মণ্ডলসহ অন্তত ১০ জন জানান, গরু-ছাগল থেকে শুরু করে কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফসল মৌখাড়া হাটে বিক্রি করা হয়। কিন্তু ভাঙা সড়কের কারণে সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে সার ও বীজ পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। তাদের দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে পাকা করা সড়কটি ধীরে ধীরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে এখন কাদা-পানিতে ডুবে থাকছে। এত দীর্ঘ সময়েও সড়কটি কেন মেরামত করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তাদের।

মৌখাড়া হাটের ইজারাদার আবদুল মান্নান বলেন, গুরুদাসপুরের চাপিলা, বড়াইগ্রামের জুয়াড়ি ইউনিয়ন ও নাটোরের আহম্মেদপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতি শুক্রবার ভাঙা সড়ক দিয়ে এই হাটে আসেন। আশপাশের বড় হাট হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। প্রতি হাটে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাটে পণ্য আনা-নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তার প্রশ্ন, আশপাশের অন্যান্য সড়ক একাধিকবার মেরামত করা হলেও গত ১০ বছরে এই সড়কটি একবারও কেন মেরামত করা হয়নি।

এ বিষয়ে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার বলেন, সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ভাঙা অংশ আরসিসি ঢালাই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি মেরামত করা হবে।