আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে ‘প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আমার করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এল্ডারলি কেয়ার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও হাইপার টেনশন সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার পান্থপথের মাদল খাবারঘরে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা শুধু পরিবার বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। বাবা-মাসহ পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সর্বোচ্চ যত্ন ও সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী, পাড়া-মহল্লা এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রবীণদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যার সমাধানে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
এল্ডারলি কেয়ার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি ও সাবেক সচিব সাইদুর রহমান – এর সভাপতিত্বে সভায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগের কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।
প্রতিপাদ্য বিষয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন।
মতবিনিময় সভায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের উপায়, তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু, চেয়ারম্যান, রুপান্তর; ডা. হালিদা এইচ আখতার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; অধ্যাপক ডা, একেএম জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি; অধ্যাপক ডা. হাবিবউল্লাহ তালুকদার, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ; ডা. রোকসানা রেজা, মহাসচিব, গোল্ডেন এজারস ক্লাব; গবেষক নাজমে সাবিনা, গাজী নজরুল ইসলাম ফয়সাল, পরিচালক, ইসলামিয়া আই হাসপাতাল; আর্কিটেক্ট মঞ্জুর কে এইচ উদ্দিন, কে এম জাহিদুজ্জামান, সিইও, আহসানিয়া মিশন; মাহবুবুল হক, প্রধান নির্বাহী, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার; অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; আনোয়ার হোসেন রিপন, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, মিরপুর সাইন্স কলেজ; এল্ডারলি কেয়ার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-এর মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) ইকবাল হাসান শাহীন প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, আগামী দিনের অপেক্ষায় না থেকে বাবা-মা কিংবা পরিবারের অন্য প্রবীণ সদস্যদের পাশে থাকার সুযোগ এখনই কাজে লাগাতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রাম কিংবা আবাসিক ভবনের প্রবীণদের খোঁজখবর নেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে বার্ধক্যজনিত সমস্যা মোকাবিলায় আরও আন্তরিক হতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
সভায় প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে আসে—‘আগামীকাল নয়, প্রবীণদের সেবা ও যত্ন শুরু হোক আজই।’ বক্তারা মনে করেন, পারিবারিক ভালোবাসা, সামাজিক সচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণদের জন্য আরও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















