ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সঠিক সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকা সম্ভব।
কোন মৌসুমে ডেঙ্গু হয় এবং কেন হয়?
মৌসুম: বাংলাদেশে সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত (বিশেষ করে বর্ষাকালে ও এর পরে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত) ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি থাকে।
কারণ: জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফলে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন পাত্রে বা ছাদে জমে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণসমূহ
হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০২°-১০৪° ফারেনহাইট)।
মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা।
শরীর, পেশি ও হাড়ের জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা।
বমি ভাব এবং গায়ে লালচে র্যাশ বা দানা ওঠা।
যেভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায়
NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট: জ্বর আসার ১ম থেকে ৩য় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু সনাক্তকরণের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়।
CBC টেস্ট: রক্তে প্লাটিলেট (Platelet) এবং হেমাটোক্রিটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও করণীয়
প্রচুর তরল খাওয়া: ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও পানি প্রচুর পরিমাণে পান করতে হবে।
প্যারাসিটামল সেবন: জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে।
সতর্কতা: ভুল করেও অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া যাবে না, এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
ঘরবাড়ির আশপাশে ফুলের টব, ডাবের খোসা বা পাত্রে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে।
দিন হোক বা রাত—সবসময় মশারি ব্যবহার করুন।
দিনের বেলা ফুল হাতা কাপড় পরিধান করুন এবং প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন।
পরামর্শ: ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে জ্বর হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং রক্ত পরীক্ষা করান।
সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

ডা. মোঃ আব্দুল হাকিম 


















