চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড দেখিয়ে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের উদ্দেশে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অধ্যাপক সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন উপাচার্য অনলাইনে যোগদান করেছেন এবং গণমাধ্যমে দেওয়া তার বক্তব্যের প্রতিবাদেই তারা লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ প্রত্যাহার করে আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই চুয়েটের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকালেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থান অব্যাহত ছিল।
এদিন সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেয়ালে প্রতিবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। এসব গ্রাফিতিতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরা হয়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও কর্মবিরতি পালন করছেন। শিক্ষক সমিতি জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

অনলাইন ডেস্ক 


















