ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি তা নেবেন

blank

লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যেন দুঃসাহসের বিষয়। তবু ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যদি আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়, তবে কি সেটি আবারও মেসিই নেবেন?

এই প্রশ্নের কারণও আছে। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি পেনাল্টি পেয়েও একটিতেও গোল করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে, পরবর্তী পেনাল্টির দায়িত্ব কি তার হাতেই থাকবে, নাকি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে?

একবার ভেবে দেখুন, ওই দুটি পেনাল্টি যদি মেসি কাজে লাগাতে পারতেন, তাহলে চিত্রটা হয়তো ভিন্ন হতো। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ফিরে আসতে হতো না। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও দল এতটা চাপে পড়ত না। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি একাই শীর্ষে থাকতেন, কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে নয়।

 

 

তবে মেসিকে সরিয়ে অন্য কাউকে পেনাল্টির দায়িত্ব দেওয়াও সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দুই তিনি। মিসরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও ম্যাচে একটি গোল করেছেন, একটি গোলে সহায়তাও করেছেন। সেই ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে এবং নকআউট পর্বে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—এত বড় অবদান রাখা একজন ফুটবলারের কাছ থেকে কি পেনাল্টির দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া সম্ভব?

পরিসংখ্যান বলছে, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসি এখন পর্যন্ত ১৪৮টি পেনাল্টি নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১৪টিতে সফল হয়েছেন। অর্থাৎ তার সফলতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ।

তবে শতকরা হিসাবের দিক থেকে আর্জেন্টিনা দলে মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন কয়েকজন ফুটবলার। সবচেয়ে বেশি সফল লিয়ান্দ্রো পারেদেস, যার পেনাল্টি সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ। এরপর আছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৯১.৭ শতাংশ) এবং এনজো ফার্নান্দেজ (৯১.৭ শতাংশ)। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ, আর নিকো গনসালেসের ৮২.০৪ শতাংশ।

তবে শুধু শতাংশের হিসাবই পুরো সত্য তুলে ধরে না। কারণ, এই খেলোয়াড়দের কেউই মেসির মতো এত বিপুলসংখ্যক পেনাল্টি নেননি। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসির অভিজ্ঞতার ধারেকাছেও নেই তাদের কেউ। যে খেলোয়াড় যত বেশি পেনাল্টি নেন, তার মিস করার সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই তত বেশি থাকে।

 

 

তাই পরিসংখ্যান একদিকে অন্যদের এগিয়ে রাখলেও, অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার সাহসের দিক থেকে মেসিই এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম। এখন দেখার বিষয়, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি এলে আর্জেন্টিনার আস্থা আবারও কি তাদের অধিনায়কের ওপরই থাকে, নাকি নতুন কাউকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় খবর
blank

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি তুষার, সম্পাদক মিরন

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি তা নেবেন

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
blank

লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যেন দুঃসাহসের বিষয়। তবু ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যদি আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়, তবে কি সেটি আবারও মেসিই নেবেন?

এই প্রশ্নের কারণও আছে। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি পেনাল্টি পেয়েও একটিতেও গোল করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে, পরবর্তী পেনাল্টির দায়িত্ব কি তার হাতেই থাকবে, নাকি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে?

একবার ভেবে দেখুন, ওই দুটি পেনাল্টি যদি মেসি কাজে লাগাতে পারতেন, তাহলে চিত্রটা হয়তো ভিন্ন হতো। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ফিরে আসতে হতো না। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও দল এতটা চাপে পড়ত না। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি একাই শীর্ষে থাকতেন, কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে নয়।

 

 

তবে মেসিকে সরিয়ে অন্য কাউকে পেনাল্টির দায়িত্ব দেওয়াও সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দুই তিনি। মিসরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও ম্যাচে একটি গোল করেছেন, একটি গোলে সহায়তাও করেছেন। সেই ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে এবং নকআউট পর্বে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—এত বড় অবদান রাখা একজন ফুটবলারের কাছ থেকে কি পেনাল্টির দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া সম্ভব?

পরিসংখ্যান বলছে, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসি এখন পর্যন্ত ১৪৮টি পেনাল্টি নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১৪টিতে সফল হয়েছেন। অর্থাৎ তার সফলতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ।

তবে শতকরা হিসাবের দিক থেকে আর্জেন্টিনা দলে মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন কয়েকজন ফুটবলার। সবচেয়ে বেশি সফল লিয়ান্দ্রো পারেদেস, যার পেনাল্টি সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ। এরপর আছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৯১.৭ শতাংশ) এবং এনজো ফার্নান্দেজ (৯১.৭ শতাংশ)। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ, আর নিকো গনসালেসের ৮২.০৪ শতাংশ।

তবে শুধু শতাংশের হিসাবই পুরো সত্য তুলে ধরে না। কারণ, এই খেলোয়াড়দের কেউই মেসির মতো এত বিপুলসংখ্যক পেনাল্টি নেননি। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসির অভিজ্ঞতার ধারেকাছেও নেই তাদের কেউ। যে খেলোয়াড় যত বেশি পেনাল্টি নেন, তার মিস করার সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই তত বেশি থাকে।

 

 

তাই পরিসংখ্যান একদিকে অন্যদের এগিয়ে রাখলেও, অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার সাহসের দিক থেকে মেসিই এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম। এখন দেখার বিষয়, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি এলে আর্জেন্টিনার আস্থা আবারও কি তাদের অধিনায়কের ওপরই থাকে, নাকি নতুন কাউকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।