ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত থমকে গেছে জনজীবন

blank

বৈরী আবহাওয়া ও টানা ভারী বর্ষণে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর জোয়ারের পানি এবং অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে উত্তাল নদীর বড় বড় ঢেউ বেড়িবাঁধে আঘাত করায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙনের আশঙ্কা ও আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চরমানিকা, চরমাদ্রাজ, আসলামপুর, জাহানপুর, হাজারীগঞ্জ, নীলকমলের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট, নজরুল নগরসহ ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চর নিজাম এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতভিটা, মাছের ঘের, কৃষিজমি, খাল-বিল ও পুকুর ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় নিচু এলাকার পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে অনেক বাড়িঘরে পানি আটকে রয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে গবাদিপশুর খামার ও হাঁস-মুরগির খামারও, যা ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় প্রায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির শাকসবজি এবং ১৭০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, প্লাবিত হয়ে ২১৮ হেক্টর এলাকার ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় মাছের খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দুর্যোগের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বেতুয়া থেকে হাজারীগঞ্জ পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।

ইউএনও রুমানা আফরোজ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি এবং প্রয়োজনীয় মসলাসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি তুষার, সম্পাদক মিরন

টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত থমকে গেছে জনজীবন

প্রকাশের সময় : ১১ ঘন্টা আগে
blank

বৈরী আবহাওয়া ও টানা ভারী বর্ষণে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর জোয়ারের পানি এবং অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে উত্তাল নদীর বড় বড় ঢেউ বেড়িবাঁধে আঘাত করায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙনের আশঙ্কা ও আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চরমানিকা, চরমাদ্রাজ, আসলামপুর, জাহানপুর, হাজারীগঞ্জ, নীলকমলের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট, নজরুল নগরসহ ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চর নিজাম এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতভিটা, মাছের ঘের, কৃষিজমি, খাল-বিল ও পুকুর ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় নিচু এলাকার পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে অনেক বাড়িঘরে পানি আটকে রয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে গবাদিপশুর খামার ও হাঁস-মুরগির খামারও, যা ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় প্রায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির শাকসবজি এবং ১৭০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, প্লাবিত হয়ে ২১৮ হেক্টর এলাকার ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় মাছের খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দুর্যোগের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বেতুয়া থেকে হাজারীগঞ্জ পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।

ইউএনও রুমানা আফরোজ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি এবং প্রয়োজনীয় মসলাসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।