ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানিক হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

blank

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম আদালত) অসীম কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি ছয় আসামিকে খালাস দেন আদালত।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া, তার ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মোতাহার মিয়া ও মনির মিয়া পলাতক রয়েছেন।

মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন একই পরিবারের কামাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, কামালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন এবং মনিরের স্ত্রী খাদিজা বেগম।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, নিমবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার টাকা-পয়সা লেনদেন ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকার বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলে মানিক মিয়াকে খবর দিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে গেলে মনিরসহ তার পরিবারের সদস্যরা মানিক মিয়ার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর এক বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে ১১ আসামির মধ্যে নয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাকি দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সাত বছর ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। বাকি আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, তারা আশা করেছিলেন, সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাদীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। যাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তারাই আঘাত করেছিলেন। রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং আপিল করবেন না।

জনপ্রিয় খবর
blank

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আবারও এক মামলায় গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানিক হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
blank

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম আদালত) অসীম কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি ছয় আসামিকে খালাস দেন আদালত।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া, তার ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মোতাহার মিয়া ও মনির মিয়া পলাতক রয়েছেন।

মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন একই পরিবারের কামাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, কামালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন এবং মনিরের স্ত্রী খাদিজা বেগম।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, নিমবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার টাকা-পয়সা লেনদেন ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকার বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলে মানিক মিয়াকে খবর দিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে গেলে মনিরসহ তার পরিবারের সদস্যরা মানিক মিয়ার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর এক বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে ১১ আসামির মধ্যে নয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাকি দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সাত বছর ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। বাকি আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, তারা আশা করেছিলেন, সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাদীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। যাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তারাই আঘাত করেছিলেন। রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং আপিল করবেন না।