ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর কাল: চার দাবির বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

blank

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে ঘিরে বিভাগজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে—এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

৬ জেলা ও ৪২ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল বিভাগে জাতীয় সংসদের ২১টি আসন রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এর মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফলে সরকারের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। তবে সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে বরিশালের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প বা বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে সংসদে বরিশাল অঞ্চলের একাধিক সদস্য বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচিও পালন করা হয়।

স্থানীয়দের প্রধান চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে—ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, সমুদ্রভাঙন রোধের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরু সড়ক ও যানজটের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি শিল্পায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও সমুদ্রভাঙনের কারণে এটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধ, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে এখনো আধুনিক চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকাসহ অন্যত্র যেতে হয়। বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ভোলা এখনো সড়ক যোগাযোগে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পায়ন হচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা এ সফরেই আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে সবার প্রত্যাশা।

সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর উপলক্ষে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শনিবার সকালে মহানগর যুবদল ও বিএনপির উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

২৫ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক ঢামেক: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর কাল: চার দাবির বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

প্রকাশের সময় : ৪ ঘন্টা আগে
blank

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে ঘিরে বিভাগজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে—এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

৬ জেলা ও ৪২ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল বিভাগে জাতীয় সংসদের ২১টি আসন রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এর মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফলে সরকারের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। তবে সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে বরিশালের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প বা বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে সংসদে বরিশাল অঞ্চলের একাধিক সদস্য বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচিও পালন করা হয়।

স্থানীয়দের প্রধান চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে—ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, সমুদ্রভাঙন রোধের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরু সড়ক ও যানজটের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি শিল্পায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও সমুদ্রভাঙনের কারণে এটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধ, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে এখনো আধুনিক চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকাসহ অন্যত্র যেতে হয়। বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ভোলা এখনো সড়ক যোগাযোগে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পায়ন হচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা এ সফরেই আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে সবার প্রত্যাশা।

সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর উপলক্ষে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শনিবার সকালে মহানগর যুবদল ও বিএনপির উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।