ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেসব শর্ত রাখল ইরান

blank

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবে তেমন নতুনত্ব নেই। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যেসব শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তেহরান মূলত সেগুলোকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

তবুও নতুন প্রস্তাব পাওয়ার পর ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবানন পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ফেরতের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তাও চেয়েছে দেশটি। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব শর্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তেহরানের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের বোমাবর্ষণ ছাড়াই যদি সংকটের সমাধান সম্ভব হয়, তবে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো পথ।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরব-এর নেতারা তাকে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দেখছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে পাকিস্তান-এর রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া বিরল প্রত্যক্ষ বৈঠকের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই নতুন প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, দুই পক্ষই ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সমর্থনে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পুরো অঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা চললেও ইরান এখনো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধরে রেখেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দূরত্ব এখনো অনেকটাই রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেসব শর্ত রাখল ইরান

নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেসব শর্ত রাখল ইরান

প্রকাশের সময় : ৩ মিনিট আগে
blank

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবে তেমন নতুনত্ব নেই। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যেসব শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তেহরান মূলত সেগুলোকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

তবুও নতুন প্রস্তাব পাওয়ার পর ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবানন পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ফেরতের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তাও চেয়েছে দেশটি। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব শর্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তেহরানের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের বোমাবর্ষণ ছাড়াই যদি সংকটের সমাধান সম্ভব হয়, তবে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো পথ।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরব-এর নেতারা তাকে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দেখছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে পাকিস্তান-এর রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া বিরল প্রত্যক্ষ বৈঠকের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই নতুন প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, দুই পক্ষই ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সমর্থনে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পুরো অঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা চললেও ইরান এখনো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধরে রেখেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দূরত্ব এখনো অনেকটাই রয়ে গেছে।