যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে দুজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০৩ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষে তাদের একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মার্চ মাসে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ১৮ সেনাসদস্য ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আসন্ন লেবানন-ইসরায়েল বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, সামরিক অভিযান এবং লেবাননের ঘরবাড়ি ধ্বংস বন্ধে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার জেরে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর জবাবে লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৫৫২ জন। আর মার্চ থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৪৬ জনে। চলমান সংঘাতে দেশটিতে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















