ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ৪৫ দিনের শিশু চুরি করে বিক্রি, ১৪ দিন পর উদ্ধার করল পুলিশ

blank

সন্তানহারা নারীর মুখে হাসি ফোটাতে দিনমজুর মায়ের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশু চুরি করে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন এক প্রতিবেশী নারী। পুলিশের তৎপরতায় ঘটনার ১৪ দিন পর বিক্রি হওয়া শিশুকে নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় শিশুটি বিক্রি করা নারীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।

উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের মৃত মোস্তফা কাজির ভাড়াটিয়া সোহেল-বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী ঘুমন্ত কন্যাশিশু সাদিয়া নিখোঁজ হয়।

তিনি জানান, বৃষ্টির স্বামী সোহেল সবজি বিক্রি করেন। বৃষ্টি স্থানীয় বাজারে মাছ কেটে উপার্জন করেন। ঘটনার দুদিন আগে সোহেল বরগুনায় যান। বৃষ্টি তার প্রতিবেশী নাসিমা কবিরাজের কাছ থেকে বিভিন্ন ঝাড়ফুঁক, তদবির এবং তাবিজ-কবজ নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন বৃষ্টিকে একটি কাগজ পোড়ানোর জন্য পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির পেছনে পাঠান নাসিমা। সেখান থেকে ঘরে ফিরে তিনি দেখতে পান, বিছানায় তার শিশুকন্যা নেই।

এ ঘটনায় শিশুর মা বৃষ্টি বেগম গত ২২ অক্টোবর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। শিশুর মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে নাসিমাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে শিশু চুরির রহস্য।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘নাসিমা কবিরাজ স্থানীয় মৌরি নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মৌরি বাচ্চাটি তার সন্তানহারা বড় বোন সম্পাকে দেন। সম্পা বাচ্চা নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। পরে পুলিশের তৎপরতায় মৌরি শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন। এরপর বাচ্চাটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ ১৪ দিন পর কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দিনমজুর বৃষ্টি।’

সম্পা বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান মারা গেছে। আমি চেয়েছিলাম কোনো গরিব বা অসহায় সন্তান দত্তক নিতে। ওই শিশুটি যে চুরি করে নেওয়া হয়েছে, সেটা আমার জানা ছিল না। পুলিশের কাছ থেকে জানার পর শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসি।’

সম্পার মা বলেন, ‘একজন মহিলা বোরকা পরে মুখ ঢেকে আমাদের বাসায় গিয়ে দরজায় নক করে ১৫ হাজার টাকায় বাচ্চাটা বিক্রি করতে চায়। আমি তার কাছ থেকে বাচ্চাটা কিনে রেখেছি। তাকে আমি চিনিও না। পরে যখন জানতে পেরেছি বাচ্চাটা চুরি করা, তখন বাচ্চাটা ফিরিয়ে দিয়েছি।’

তবে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আটক নাসিমা বেগম। তার দাবি, চুরির ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের মৃত কামাল শেখের স্ত্রী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমা এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি স্কুল এলাকার মৌরি।

জনপ্রিয় খবর
blank

বরিশালে ৪৫ দিনের শিশু চুরি করে বিক্রি, ১৪ দিন পর উদ্ধার করল পুলিশ

বরিশালে ৪৫ দিনের শিশু চুরি করে বিক্রি, ১৪ দিন পর উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশের সময় : ৩১ মিনিট আগে
blank

সন্তানহারা নারীর মুখে হাসি ফোটাতে দিনমজুর মায়ের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশু চুরি করে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন এক প্রতিবেশী নারী। পুলিশের তৎপরতায় ঘটনার ১৪ দিন পর বিক্রি হওয়া শিশুকে নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় শিশুটি বিক্রি করা নারীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।

উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের মৃত মোস্তফা কাজির ভাড়াটিয়া সোহেল-বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী ঘুমন্ত কন্যাশিশু সাদিয়া নিখোঁজ হয়।

তিনি জানান, বৃষ্টির স্বামী সোহেল সবজি বিক্রি করেন। বৃষ্টি স্থানীয় বাজারে মাছ কেটে উপার্জন করেন। ঘটনার দুদিন আগে সোহেল বরগুনায় যান। বৃষ্টি তার প্রতিবেশী নাসিমা কবিরাজের কাছ থেকে বিভিন্ন ঝাড়ফুঁক, তদবির এবং তাবিজ-কবজ নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন বৃষ্টিকে একটি কাগজ পোড়ানোর জন্য পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির পেছনে পাঠান নাসিমা। সেখান থেকে ঘরে ফিরে তিনি দেখতে পান, বিছানায় তার শিশুকন্যা নেই।

এ ঘটনায় শিশুর মা বৃষ্টি বেগম গত ২২ অক্টোবর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। শিশুর মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে নাসিমাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে শিশু চুরির রহস্য।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘নাসিমা কবিরাজ স্থানীয় মৌরি নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মৌরি বাচ্চাটি তার সন্তানহারা বড় বোন সম্পাকে দেন। সম্পা বাচ্চা নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। পরে পুলিশের তৎপরতায় মৌরি শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন। এরপর বাচ্চাটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ ১৪ দিন পর কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দিনমজুর বৃষ্টি।’

সম্পা বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান মারা গেছে। আমি চেয়েছিলাম কোনো গরিব বা অসহায় সন্তান দত্তক নিতে। ওই শিশুটি যে চুরি করে নেওয়া হয়েছে, সেটা আমার জানা ছিল না। পুলিশের কাছ থেকে জানার পর শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসি।’

সম্পার মা বলেন, ‘একজন মহিলা বোরকা পরে মুখ ঢেকে আমাদের বাসায় গিয়ে দরজায় নক করে ১৫ হাজার টাকায় বাচ্চাটা বিক্রি করতে চায়। আমি তার কাছ থেকে বাচ্চাটা কিনে রেখেছি। তাকে আমি চিনিও না। পরে যখন জানতে পেরেছি বাচ্চাটা চুরি করা, তখন বাচ্চাটা ফিরিয়ে দিয়েছি।’

তবে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আটক নাসিমা বেগম। তার দাবি, চুরির ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের মৃত কামাল শেখের স্ত্রী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমা এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি স্কুল এলাকার মৌরি।