ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পেয়ে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একে একে ২১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলম জানান, আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় বিভিন্ন স্টেশনের কর্মীরা সম্মিলিতভাবে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কারখানার ভবনটি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ দ্রুত পুড়ে যাওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ১৪টি ইউনিট কাজ করছিল। পরে আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরবর্তী সময়ে মোট ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাও যোগ দেন।

কারখানার ভেতরে থাকা ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কারখানার চারতলা ভবনের কেমিক্যাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। তিনি জানান, বর্তমানে কারখানার ভেতরে অবশিষ্ট আগুন নেভানো ও পুড়ে যাওয়া মালামাল সরানোর কাজ চলছে। এ কার্যক্রম শেষ করতে আগামীকাল সারাদিন সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। কারখানাটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও পরিদর্শনের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

অনলাইন ডেস্ক 



















