1. chalanbeel.probaho@gmail.com : News :
  2. khokanhaque.du@gmail.com : khokan :
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:০১ অপরাহ্ন

ভয়াল ২৯ এপ্রিল, স্বজন হারানো বেদনার ৩২ বছর আজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩০ বার পঠিত

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। উপকূলবাসীর স্বজন হারানো ও দুঃখ বেদনার দিন। সরকারি হিসেবে ঐদিন এক রাতে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ছিল দুই লক্ষাধিক। এ ছাড়া গবাদিপশু, হাস মুরগীসহ অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল লক্ষাধিক কোটি টাকার।
এদিন উপলক্ষে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের বিভিন্ন সংগঠন শোকসভার আয়োজন করেন। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল নিহতদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল, কোরানখনি ও মসজিদ, মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, বাশখালী আনোয়ারা, হাতিয়া,পতেঙ্গা, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, চকরিয়া, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘণ্টা) এবং তার সাথে ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাস। এই ঝড়ে মৃত্যুবরণ করেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মানুষ এবং তার চেয়েও বেশি মানুষ আহত হয়। আশ্রয়হীন হয়েছিল কোটি মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির বিচারে এই ঘূর্ণিঝড় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছিল ২২শে এপ্রিল থেকেই। ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে; ২৮ ও ২৯ এপ্রিল তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে রাতে আঘাত হানে এবং এর গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে।


ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ক্ষয়ক্ষতির কারণ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল আগে থেকেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার হয়েছিল। সেসময় অনেকেই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বুঝতে পারেনি বলে সাইক্লোন সেন্টারে যায়নি। বার বার মাইকিং করা সত্ত্বেও বাড়ি ঘর ছেড়ে যেতে চায় নি’। এটাও ঠিক যে তখন সাইক্লোন সেন্টারও যথেষ্ট ছিল না। যাবেই বা কোথায়? পরিবারের বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। শেষ সময়ে অনেকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়ে যাবার সময় বৃদ্ধ মা-বাবাকে নারিকেল গাছের সাথে বেঁধে গেছেন। বাতাসের তীব্র গতিতে গাছের সাথে দুলতে দুলতে কেউ কেউ বেঁচেও গিয়েছিলেন, আবার ভেসেও গেছেন এমন দুঃখের কথাও আমরা শুনেছি মহেশখালী কুতুবদিয়া,চকরিয়া উপজেলার বদরখালির মানুষের কাছে।  ঘূর্ণিঝড়ের পরে  পুরো উপকূল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল।  এক কবরে একাধিক নারী পুরুষ শিশুকে কাফন ছাড়া দাফন করা হচ্ছে। হাটে ঘাটে নালা নর্দমা পুকুরে লাশের সারি। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের পূর্বে নারীরা বলেছিলেন আমরা গরু-ছাগল হাঁস-মুরগি রেখে যাই কেমন করে? এটা নিয়ে অনেকে হেসেছিলেন, কিন্তু ওদের কথায় এটা পরিষ্কার ছিল যে পরিবার বলতে ওদের কাছে শুধু মানুষ নয়, ঘরের পশুপাখিও তাদের পরিবারের অংশ। তাদের ফেলে যাবেন এমন স্বার্থপর তারা নন। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে গবাদীপশু রাখার ব্যবস্থা তখন ছিল না, এখনও নেই। শুধু মানুষ বাঁচানোর চেষ্টা। আবার এই মানুষ যখন অন্য প্রাণীর জন্যে আকুল হয় তখন তাদের সচেতনতার অভাবের কথা বলা হয়।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় অনেক বেশি মাত্রার ছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু এতো ক্ষয়ক্ষতি কি শুধুমাত্র সে কারণেই হয়েছে? এতো তীব্র মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হলে তো ক্ষয়ক্ষতি হবেই। কিন্তু মানুষের কি কোন দায় নেই? এতোদিনেও এই কথাটি কেউ বলছেন না যে রপ্তানিমুখী চিংড়িচাষের জন্যে গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে অদ্যবধি উপকূল অঞ্চলে ব্যাপকভাবে প্যারাবন বা ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে ঘের বানানো হচ্ছে।  এ ছাড়া মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, বাশখালী, হাতিয়া, সন্দীপসহ চট্রগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের আওতাধীন প্রায় ১৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস করে সাবাড় করেছে প্রভাবশালী মহল গত ৩২ বছরে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর পরামর্শে ৮০ দশক থেকে এই চিংড়ি চাষ ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিল। সে সুযোগে প্যারাবন বা ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধ্বংসয্জ্ঞ চলে। সে সময় চিংড়ি চাষের বিরোধিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো।  এলাকার মানুষের পরামর্শে ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট লাগানো হয়। ধাপে ধাপে এই প্যারাবন লাগাবার কাজ চলছে যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। বলাবাহুল্য, এখনও চিংড়িঘেরের ব্যবসায়ীরা সুযোগ এলেই গাছ কাটতে উদ্যত হয়। সারাক্ষণ পাহাড়া দিয়ে রাখতে হয়। ১৯৯১ সালের পর ছোট-বড় আরও কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় (যেমন ইয়াশ), কিন্তু যেখানে প্যারাবনের গাছগুলো বড় হয়ে গেছে সেখানে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে, এটা প্রমাণিত। চিংড়ি ঘেরের মালিকরা প্যারাবন কেটে ঘের বানিয়েছে এবং প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করছে অথচ প্যারাবন দিয়ে ঘেরা জায়গায় কোন বাঁধ নষ্ট হয় নি।

দীর্ঘ ৩১ বছরে এপর্যন্ত উপকুলে নির্মিত হয়েছে শত শত আশ্রয় শিবির। কিন্তু এখনো নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়ীবাঁধ। টেকনাফ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বেড়ীবাঁধ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে এখনো পানি ঢুকে লোকালয়ে। মহেশখালীর ধলঘাটার মানুষ এখনো মানববন্ধন করে টেকসই বেড়িবাঁধের জন্য।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত