ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজারের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ, সাংবাদিককে মারধর

blank

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের কয়েকটি এলাকায় রোববার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এ সময় একটি কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক।

এ পরিস্থিতিতে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মহাসড়ক অবরোধের আগে হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন একেএইচ গ্রুপের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালান পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকার। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে একেএইচ গ্রুপের কারখানায় তখনো শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন।

বেলা আড়াইটার দিকে ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর শ্রমিকদের একটি অংশ একেএইচ গ্রুপের কারখানার সামনে গিয়ে সেখানকার শ্রমিকদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু শ্রমিকেরা বের না হওয়ায় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় বিক্ষোভকারীরা কারখানা চত্বরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কারখানার কাচ, শ্রমিকদের পরিবহনের বাস, প্রাইভেট কার ও কাভার্ড ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি কারখানার ফটকে নিরাপত্তারক্ষীদের বসার কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

পরে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সাভার মডেল থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

blank

গোপাল মালাকার প্রথম আলোকে বলেন, “ভিডিও করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভিডিও কেন করছি, তা জানতে চেয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় তাঁরা আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। যে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলাম, সেটিও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।”

আশুলিয়ায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের চার থেকে পাঁচজন সদস্য আহত হন। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের ভাষ্য, নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা আশপাশের কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

blank

গুরুদাসপুরে ক্যান্সার রোগী, মেধাবী শিক্ষার্থী ও অসহায় নারীর পাশে রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজারের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ, সাংবাদিককে মারধর

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
blank

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের কয়েকটি এলাকায় রোববার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এ সময় একটি কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক।

এ পরিস্থিতিতে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মহাসড়ক অবরোধের আগে হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন একেএইচ গ্রুপের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালান পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকার। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে একেএইচ গ্রুপের কারখানায় তখনো শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন।

বেলা আড়াইটার দিকে ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর শ্রমিকদের একটি অংশ একেএইচ গ্রুপের কারখানার সামনে গিয়ে সেখানকার শ্রমিকদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু শ্রমিকেরা বের না হওয়ায় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় বিক্ষোভকারীরা কারখানা চত্বরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কারখানার কাচ, শ্রমিকদের পরিবহনের বাস, প্রাইভেট কার ও কাভার্ড ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি কারখানার ফটকে নিরাপত্তারক্ষীদের বসার কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

পরে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সাভার মডেল থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

blank

গোপাল মালাকার প্রথম আলোকে বলেন, “ভিডিও করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভিডিও কেন করছি, তা জানতে চেয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় তাঁরা আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। যে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলাম, সেটিও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।”

আশুলিয়ায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের চার থেকে পাঁচজন সদস্য আহত হন। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের ভাষ্য, নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা আশপাশের কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।