ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বড়াইগ্রামে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

blank

নাটোরের বড়াইগ্রামের ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষে ১০ জন আহত, ১২টি বাড়ি ও দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে একজন বিএনপি ও ৯ জন জামায়াতের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব ও ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বিকালে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব ও সাব্বিরকে মারপিট করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা। এ বিষয়ে শনিবার সকালে ধানাইদহ বাজারে আপোষ মিটিং করার বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গ্রাম থেকে উভয় দলের লোকজন বাজারে আসার পথে তর্কবির্তকের এক পর্যায়ে সংর্ঘষ শুরু হয়। সংঘর্ষে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাব সরকার, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাকিব, সাব্বির, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিনের স্ত্রী গৃহবধু নাজমা বেগমসহ ১০জন আহত হয়। গুরুতর আহত হাসিনুর রহমান সহ দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্যদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর ধানাইদহ গ্রামের জামায়াত কর্মী সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, আব্দুস সোবহান, সিরাজুল ইসলাম, আল আমিন, মোজাম্মেল হোসেন, মনোয়ার হোসেন, জনাব আলী, জসিম উদ্দিনের বাড়ি ও ধানাইদহ বাজারে ইব্রাহীম খলিল সৈয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেফতারসহ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াত।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় হয়েছে, এখন তারা দেশ গঠনে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্ন মতের মানুষের উপরে যে হামলা নির্যাতন শুরু করেছে তা কারো কাম্য নয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

 

জনপ্রিয় খবর

ভালো কাজের হোটেল

বড়াইগ্রামে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

প্রকাশের সময় : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

নাটোরের বড়াইগ্রামের ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষে ১০ জন আহত, ১২টি বাড়ি ও দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে একজন বিএনপি ও ৯ জন জামায়াতের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব ও ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বিকালে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব ও সাব্বিরকে মারপিট করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা। এ বিষয়ে শনিবার সকালে ধানাইদহ বাজারে আপোষ মিটিং করার বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গ্রাম থেকে উভয় দলের লোকজন বাজারে আসার পথে তর্কবির্তকের এক পর্যায়ে সংর্ঘষ শুরু হয়। সংঘর্ষে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাব সরকার, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাকিব, সাব্বির, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিনের স্ত্রী গৃহবধু নাজমা বেগমসহ ১০জন আহত হয়। গুরুতর আহত হাসিনুর রহমান সহ দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্যদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর ধানাইদহ গ্রামের জামায়াত কর্মী সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, আব্দুস সোবহান, সিরাজুল ইসলাম, আল আমিন, মোজাম্মেল হোসেন, মনোয়ার হোসেন, জনাব আলী, জসিম উদ্দিনের বাড়ি ও ধানাইদহ বাজারে ইব্রাহীম খলিল সৈয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেফতারসহ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াত।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় হয়েছে, এখন তারা দেশ গঠনে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্ন মতের মানুষের উপরে যে হামলা নির্যাতন শুরু করেছে তা কারো কাম্য নয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।