ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটার উন্নয়নে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রি করার দাবী

blank

(কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনকে ঘিরে নতুন করে উন্নয়নের প্রত্যাশা জেগেছে। দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দর এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটা—এই দুই সম্ভাবনাময় স্থাপনাকে ঘিরে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-কে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। নেতৃবৃন্দের মতে, পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহরে রূপান্তর এবং একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ—এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য। উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শক্ত প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার বলেন, “পটুয়াখালী–৪ আসন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হলে আমাদের এমপিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সময়ের দাবি।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, “প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রত্যাশা—পায়রা বন্দরের আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। মন্ত্রিত্ব পেলে এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক বলেন, “কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন জরুরি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান ছাড়া তা সম্ভব নয়।”

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বলেন, “পায়রা বন্দরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটতে পারে। এজন্য প্রয়োজন বড় পরিসরের বাজেট ও নীতিগত সহায়তা।”

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান বলেন, “বিশ্বমানের অবকাঠামো, হোটেল-রিসোর্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করলে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।”

মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, “নদীভাঙন রোধ, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ও উপকূলীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা অপরিহার্য।”

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিএনপির চেয়ারম্যান ও আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাশিত তারেক রহমান-এর নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন—পটুয়াখালী–৪ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে পূর্ণ মন্ত্রিত্ব প্রদান করা হোক।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পায়রা বন্দরকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব এবং কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপ দিতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট ও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তারা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে মন্ত্রিপরিষদে দেখতে চান।

জনপ্রিয় খবর

ভালো কাজের হোটেল

পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটার উন্নয়নে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রি করার দাবী

প্রকাশের সময় : ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

(কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনকে ঘিরে নতুন করে উন্নয়নের প্রত্যাশা জেগেছে। দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দর এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটা—এই দুই সম্ভাবনাময় স্থাপনাকে ঘিরে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন-কে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। নেতৃবৃন্দের মতে, পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহরে রূপান্তর এবং একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ—এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য। উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শক্ত প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার বলেন, “পটুয়াখালী–৪ আসন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হলে আমাদের এমপিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সময়ের দাবি।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, “প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রত্যাশা—পায়রা বন্দরের আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। মন্ত্রিত্ব পেলে এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক বলেন, “কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন জরুরি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান ছাড়া তা সম্ভব নয়।”

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বলেন, “পায়রা বন্দরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটতে পারে। এজন্য প্রয়োজন বড় পরিসরের বাজেট ও নীতিগত সহায়তা।”

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান বলেন, “বিশ্বমানের অবকাঠামো, হোটেল-রিসোর্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করলে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।”

মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, “নদীভাঙন রোধ, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ও উপকূলীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা অপরিহার্য।”

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিএনপির চেয়ারম্যান ও আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাশিত তারেক রহমান-এর নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন—পটুয়াখালী–৪ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে পূর্ণ মন্ত্রিত্ব প্রদান করা হোক।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পায়রা বন্দরকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব এবং কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপ দিতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট ও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তারা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে মন্ত্রিপরিষদে দেখতে চান।