কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার এক সময়কার চেনা দৃশ্য পিঁড়িতে বসে চুল কাটানো। এক সময় যেখানে খোলা আকাশের নিচে, গাছতলায় কিংবা গ্রামের মোড়ে বসেই নাপিতের দোকান বসত, সেখানে এখন আধুনিক সেলুন, চেয়ার-আয়না আর বৈদ্যুতিক মেশিনের দাপট।
তবুও এই পরিবর্তনের মাঝেও এখনো টিকে আছেন কিছু মানুষ, যারা আগের সেই ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে আছেন নিরবে-নিভৃতে। তেমনই একজন হলেন পরিতোষ শীল। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আজও তিনি পিরিতে বসিয়েই চুল কাটেন।
পরিতোষ শীল জানান, আধুনিক সেলুনের ভিড়ে তাঁর কাজ অনেকটাই কমে গেছে। তবুও বাপের ঐতিহ্য আকড়ে রেখেছি এবং কি গ্রামের কিছু বয়স্ক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এখনো তাঁর কাছেই চুল কাটাতে আসেন। তিনি বলেন, আগে সারা দিনই কাজ থাকত। এখন তেমন নেই। তবুও দিনে গড়ে আয় ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা রোজগার হয়। এই দিয়েই কোনো মতে সংসার চলে।
গ্রামবাসীদের মতে, পরিতোষের মতো মানুষেরাই গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন। আধুনিকতার স্রোতে যেখানে সবকিছু বদলে যাচ্ছে, সেখানে মাটিতে বসে চুল কাটানো শুধু একটি পেশা নয়—এটি এক সময়কার গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত স্মৃতি।
আজকের প্রজন্মের কাছে হয়তো এই দৃশ্য অচেনা হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পরিতোষদের মতো মানুষরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন—শিকড়কে আঁকড়ে ধরেই সময়ের সঙ্গে লড়াই করা যায়। এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আগে প্রয়োজন যথাযথ সম্মান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ, যাতে গ্রাম বাংলার এই সহজ-সরল সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও বেঁচে থাকে।

রাশিদুল হাসান, তাড়াশ প্রতিনিধি 






















