ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনা-মোংলা মহাসড়কে শোকের স্তব্ধতা: ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জুতা, শিশুর ফিডার

blank

খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকার দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে জুতা, ভাঙা কাচের অসংখ্য টুকরো আর একটি শিশুর ফিডার। গন্তব্যে পৌঁছানোর মাত্র ১৫ কিলোমিটার আগেই মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে ১৪টি তাজা প্রাণ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ১৪ জনের মধ্যে চারজনই অবুঝ শিশু, যাদের দুজনের বয়স দুই বছরেরও কম। দুর্ঘটনায় ওই শিশুদের মায়েরাও প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনাস্থলের পাশেই রফিকুল ইসলামের বাড়ি। ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “জীবনে এত বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। মাঠে গরু রেখে মাত্রই ঘরে ফিরেছি, এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দ। ছুটে গিয়ে দেখি দুই গাড়ির সংঘর্ষ। চারদিকে শুধু রক্ত আর মৃত মানুষ।” রফিকুলের মতো আরও অনেক স্থানীয় মানুষই ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

সকালে নিজের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে আসেন শান্তি রানী বিশ্বাস। তিনি বলেন, “রাতে খবরে দেখেছি কত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাই সকালে দেখতে এলাম।” কেবল স্থানীয় মানুষই নন, ওই সড়কে চলাচলকারী অনেক যানবাহনের চালককেও গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ধরনের ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ মোংলায় এবং ৪ জনের মরদেহ কয়রায় নেওয়া হয়েছে। আর মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন কেবলই শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় কাঁদছেন স্বজনরা।

blank

পারস্য উপসাগরে ইরানের অবরোধ: সংকটে ২ সহস্রাধিক জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

খুলনা-মোংলা মহাসড়কে শোকের স্তব্ধতা: ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জুতা, শিশুর ফিডার

প্রকাশের সময় : ০৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
blank

খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকার দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে জুতা, ভাঙা কাচের অসংখ্য টুকরো আর একটি শিশুর ফিডার। গন্তব্যে পৌঁছানোর মাত্র ১৫ কিলোমিটার আগেই মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে ১৪টি তাজা প্রাণ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ১৪ জনের মধ্যে চারজনই অবুঝ শিশু, যাদের দুজনের বয়স দুই বছরেরও কম। দুর্ঘটনায় ওই শিশুদের মায়েরাও প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনাস্থলের পাশেই রফিকুল ইসলামের বাড়ি। ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “জীবনে এত বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। মাঠে গরু রেখে মাত্রই ঘরে ফিরেছি, এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দ। ছুটে গিয়ে দেখি দুই গাড়ির সংঘর্ষ। চারদিকে শুধু রক্ত আর মৃত মানুষ।” রফিকুলের মতো আরও অনেক স্থানীয় মানুষই ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

সকালে নিজের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে আসেন শান্তি রানী বিশ্বাস। তিনি বলেন, “রাতে খবরে দেখেছি কত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাই সকালে দেখতে এলাম।” কেবল স্থানীয় মানুষই নন, ওই সড়কে চলাচলকারী অনেক যানবাহনের চালককেও গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ধরনের ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ মোংলায় এবং ৪ জনের মরদেহ কয়রায় নেওয়া হয়েছে। আর মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন কেবলই শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় কাঁদছেন স্বজনরা।