ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদীর মৃত্যুতে সারাদেশ উত্তাল বিক্ষোভ, অবস্থান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 173
blank

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নেত্রকোনা, ঝালকাঠিসহ সারাদেশে তাঁর মৃত্যুতে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে  ছাত্র-জনতার অবস্থান ছিল।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক শোক মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিএসসি ও হলপাড়া এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা শোক মিছিল বের করে রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। এই কর্মসূচিতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন। অনেক শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আরেকটি শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসির চৌধুরীসহ সংগঠনের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, হাদির মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাদি একাধিকবার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।

এবি জুবায়ের আরও বলেন, অতীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন– তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

রাত পৌনে ১২টার দিকে শাহবাগে মিছিলে যুক্ত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর আগে সাড়ে ১১টায় শাহবাগে আসেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

শাহবাগে উপস্থিত হয়ে নাহিদ ইসলাম মাইকে স্লোগান ধরেন। তিনি বলেন, ‘জান দিয়েছে আমার ভাই, খুনি তোমার রক্ষা নাই, ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও জনগণ, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, আপস না সংগ্রাম, ক্ষমতা না জনতা, তুমি কে আমি কে হাদি হাদি, এক হাদি রক্ত দেবে– লক্ষ হাদি জন্ম নেবে, গোলামি না আজাদি, দিল্লি না ঢাকা, লীগ ধর জেলে ভর’ স্লোগান দেন।

ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, বাম জোটের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন। এদিকে উত্তরায় শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা।

এদিকে, একদল তরুণ চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় খুলশী এলাকায় হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তারা হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী স্লোগান দেন। পরে পুলিশের সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

হাদীর মৃত্যুতে সারাদেশ উত্তাল বিক্ষোভ, অবস্থান

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
blank

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নেত্রকোনা, ঝালকাঠিসহ সারাদেশে তাঁর মৃত্যুতে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে  ছাত্র-জনতার অবস্থান ছিল।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক শোক মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিএসসি ও হলপাড়া এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা শোক মিছিল বের করে রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। এই কর্মসূচিতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন। অনেক শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আরেকটি শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসির চৌধুরীসহ সংগঠনের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, হাদির মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাদি একাধিকবার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।

এবি জুবায়ের আরও বলেন, অতীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন– তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

রাত পৌনে ১২টার দিকে শাহবাগে মিছিলে যুক্ত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর আগে সাড়ে ১১টায় শাহবাগে আসেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

শাহবাগে উপস্থিত হয়ে নাহিদ ইসলাম মাইকে স্লোগান ধরেন। তিনি বলেন, ‘জান দিয়েছে আমার ভাই, খুনি তোমার রক্ষা নাই, ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও জনগণ, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, আপস না সংগ্রাম, ক্ষমতা না জনতা, তুমি কে আমি কে হাদি হাদি, এক হাদি রক্ত দেবে– লক্ষ হাদি জন্ম নেবে, গোলামি না আজাদি, দিল্লি না ঢাকা, লীগ ধর জেলে ভর’ স্লোগান দেন।

ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, বাম জোটের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন। এদিকে উত্তরায় শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা।

এদিকে, একদল তরুণ চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় খুলশী এলাকায় হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তারা হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী স্লোগান দেন। পরে পুলিশের সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।