ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিংড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড: সহকারী অধ্যাপককে গলাকেটে হত্যা, আগুনে ঝরল আরেক প্রাণ

blank

নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় রেজাউল করিম (৫৩) নামের এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রেজাউল করিম কুমারপাড়া গ্রামের ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং নাটোর-১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর একজন কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে কুমারপাড়া গ্রামের মুদি দোকানদার আব্দুল ওহাবের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন দেয়। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে আব্দুল ওহাবের মা ছাবিহা বেওয়া (৭৫) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আগুনে টিনের তৈরি সাতটি ছাপরা ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নুর মোহাম্মদ আলীসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার।

অন্যদিকে একই দিনে বেলা ১২টার দিকে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। পাশাপাশি বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিংড়া উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষক সমাজ।

এ বিষয়ে নিহতের ভাতিজা এবং কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপন মোবাইল ফোনে জানান, তার চাচা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে এশার নামাজ ও রাতের খাবার শেষে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল করিম ও আলাউদ্দিন মুন্সিসহ তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, নিহত রেজাউল করিমের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর পক্ষে শিক্ষক সমাজকে সংগঠিত করার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা চলছে।

এই নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

সিংড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড: সহকারী অধ্যাপককে গলাকেটে হত্যা, আগুনে ঝরল আরেক প্রাণ

প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
blank

নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় রেজাউল করিম (৫৩) নামের এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রেজাউল করিম কুমারপাড়া গ্রামের ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং নাটোর-১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর একজন কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে কুমারপাড়া গ্রামের মুদি দোকানদার আব্দুল ওহাবের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন দেয়। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে আব্দুল ওহাবের মা ছাবিহা বেওয়া (৭৫) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আগুনে টিনের তৈরি সাতটি ছাপরা ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নুর মোহাম্মদ আলীসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার।

অন্যদিকে একই দিনে বেলা ১২টার দিকে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। পাশাপাশি বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিংড়া উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষক সমাজ।

এ বিষয়ে নিহতের ভাতিজা এবং কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপন মোবাইল ফোনে জানান, তার চাচা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে এশার নামাজ ও রাতের খাবার শেষে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল করিম ও আলাউদ্দিন মুন্সিসহ তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, নিহত রেজাউল করিমের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর পক্ষে শিক্ষক সমাজকে সংগঠিত করার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা চলছে।

এই নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।