ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

blank

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলাতে বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একই শিক্ষক নিজেকে দুই পদে নিয়োগ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন ও তহবিল থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

 

এ ঘটনায় শুধু অভিযুক্ত শিক্ষকই নয়, বরং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এই ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সামছ উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে প্রবীণ শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বানিয়ে নেন। পরে সেই প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর সামছ উদ্দিন একই সময়ে দুটি পদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত বেতন নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য অনুদান ও তহবিল থেকেও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

 

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সামছ উদ্দিনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন এবং তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেন।

 

একইসঙ্গে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তানভিরকে অপসারণও করেন বোর্ড। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যরা “অবৈধ ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে দাবি করেন।

 

বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, বোর্ড চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি অনিয়মকে বৈধতা দিয়েছেন এবং একটি পক্ষকে সুবিধা দিয়েছেন।

 

এসব অভিযোগের বিচার ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের অবৈধ আদেশ বাতিলের দাবিতে কিশোরগঞ্জ নিউজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন— “একজন শিক্ষক কীভাবে নিজেকে দুই পদের দায়িত্ব দেন— এটি চরম দুর্নীতির উদাহরণ। আর শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা আরও উদ্বেগজনক।”

 

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবিরের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় খবর
blank

গুরুদাসপুরে অসহায় হতদরিদ্রদের স্বাবলম্বী করতে সেলাইমেশিন বিতরণ

শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
blank

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলাতে বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একই শিক্ষক নিজেকে দুই পদে নিয়োগ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন ও তহবিল থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

 

এ ঘটনায় শুধু অভিযুক্ত শিক্ষকই নয়, বরং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এই ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সামছ উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে প্রবীণ শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বানিয়ে নেন। পরে সেই প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর সামছ উদ্দিন একই সময়ে দুটি পদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত বেতন নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য অনুদান ও তহবিল থেকেও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

 

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সামছ উদ্দিনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন এবং তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেন।

 

একইসঙ্গে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তানভিরকে অপসারণও করেন বোর্ড। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যরা “অবৈধ ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে দাবি করেন।

 

বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, বোর্ড চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি অনিয়মকে বৈধতা দিয়েছেন এবং একটি পক্ষকে সুবিধা দিয়েছেন।

 

এসব অভিযোগের বিচার ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের অবৈধ আদেশ বাতিলের দাবিতে কিশোরগঞ্জ নিউজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন— “একজন শিক্ষক কীভাবে নিজেকে দুই পদের দায়িত্ব দেন— এটি চরম দুর্নীতির উদাহরণ। আর শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা আরও উদ্বেগজনক।”

 

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবিরের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।