রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় এখনও কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত ডাকাতির পর হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও সিআইডি।
শনিবার রাতে নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়া থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (অবসরপ্রাপ্ত), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাড়ির ভেতরে আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ করা হয়েছে। আলমারি ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার স্থান ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সোনার অলংকারের বাক্সসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লুটপাটের সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে চারজনকে গলায় রশি বা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ির বিভিন্ন স্থান, সিঁড়ি ও ছাদ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী প্রথমে বোন প্রীতিলতার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তিনি গণপতি, মেয়ে আগামী ও ছেলে প্রীয়মের ফোনেও কল করেন। সেগুলোও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে স্বজনরা মাছুয়াপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখেন, পুরো বাড়ি অন্ধকার এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ফটক বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এরপর একে একে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রীতিলতা ও তাঁর মেয়ে আগামীকে ছাদের সিঁড়ির কাছে, প্রীয়মকে খাটের নিচে এবং গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক প্রান্তে পাওয়া যায়।
গণপতি চক্রবর্তী প্রায় এক বছর আগে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। সম্প্রতি তিনি পরিবার নিয়ে নিজেদের নির্মাণাধীন বাড়িটির দোতলায় বসবাস শুরু করেছিলেন। বাড়ির নিচতলা তখনও ফাঁকা ছিল। নতুন এলাকায় বসবাস শুরু করায় প্রতিবেশীদের সঙ্গেও পরিবারের তেমন ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে চারজনকে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তাদের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং পুরো বাড়ি তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ডাকাতি কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে রংপুর মহানগর পুলিশ ও সিআইডির একাধিক দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক 



















