ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরে আজ ইউরেনিয়াম লোডিং: পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পদার্পণ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 31
blank

দীর্ঘ এক দশকের নিরলস প্রচেষ্টা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আজ থেকে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের চূড়ান্ত লাইসেন্স (কমিশনিং) পাওয়ার পর, সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে আজ বিকেলে এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সূচনা হতে যাচ্ছে।

জ্বালানি খাতের এই মেগাপ্রকল্পের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল নিয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে আজ সকালেই ঢাকায় পৌঁছাবেন। সরকারি সূত্রমতে, ঢাকায় পৌঁছে তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যাবেন। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, কড়া নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় এর আগে কয়েকবার সময়সূচি নির্ধারণ করেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে এখন সব বাধা পেরিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রূপপুরের প্রথম ইউনিট। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞও অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। আশা করা হচ্ছে, জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুর দিকেই জাতীয় গ্রিডে এই কেন্দ্র থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। আর চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই মেগাপ্রকল্পটি রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দুটি ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিয়্যাক্টর বিশিষ্ট এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট সম্পূর্ণ চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি মেটাতে সক্ষম।

জনপ্রিয় খবর
blank

উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রেজিস্ট্রারসহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে তালা, স্থবির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 

রূপপুরে আজ ইউরেনিয়াম লোডিং: পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পদার্পণ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
blank

দীর্ঘ এক দশকের নিরলস প্রচেষ্টা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আজ থেকে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের চূড়ান্ত লাইসেন্স (কমিশনিং) পাওয়ার পর, সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে আজ বিকেলে এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সূচনা হতে যাচ্ছে।

জ্বালানি খাতের এই মেগাপ্রকল্পের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল নিয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে আজ সকালেই ঢাকায় পৌঁছাবেন। সরকারি সূত্রমতে, ঢাকায় পৌঁছে তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যাবেন। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, কড়া নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় এর আগে কয়েকবার সময়সূচি নির্ধারণ করেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে এখন সব বাধা পেরিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রূপপুরের প্রথম ইউনিট। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞও অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। আশা করা হচ্ছে, জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুর দিকেই জাতীয় গ্রিডে এই কেন্দ্র থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। আর চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই মেগাপ্রকল্পটি রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দুটি ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিয়্যাক্টর বিশিষ্ট এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট সম্পূর্ণ চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি মেটাতে সক্ষম।