সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক মাসে শতাধিক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে শিশুসহ সব বয়সী অন্তত ১০ জন ডায়রিয়া রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর গ্রামের রুমানা খাতুনের ছেলে হিমেল (১৫ মাস), ধলজান গ্রামের ফজলার রহমান (৫০), মালতিনগর গ্রামের জান্নাতি (৩০) এবং তাড়াশ উপজেলার কুমাল্লু গ্রামের আহাদের মেয়ে জারামনি (৯ মাস)। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনেরা জানান, কয়েক দিন ধরেই এলাকায় পানিবাহিত ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে। গ্রামে সাধারণ চিকিৎসায় এ রোগ পুরোপুরি ভালো না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানান, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কিছু রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে অধিকাংশ রোগীকেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া তাসনিম বলেন, “শীতের প্রভাবে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে জরুরি বিভাগ সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে এবং নিয়মিত হাসপাতাল মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।”
তিনি আরও বলেন, “ডায়রিয়া প্রতিরোধে পচা-বাসি খাবার পরিহার করতে হবে এবং শীতজনিত রোগ এড়াতে সবাইকে গরম কাপড় পরিধান করতে হবে।”

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 



















