যোগাযোগ না থাকলে
প্রকৃতি ধীরে ধীরে তার দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়
হঠাৎ নয়, ঝড়ের মতো নয়,
বরং সন্ধ্যার আলো নিভে যাওয়ার মতো নিঃশব্দে।
প্রথমে কমে যায় শব্দ,
কথার ভেতর থেকে উষ্ণতা হারিয়ে যায়,
অভিমান জমে শিশিরের মতো
অদেখা পাতার গায়ে।
একসময় যে পথ ধরে
হাসি যেত, স্বপ্ন ফিরত,
সেই পথেই জন্ম নেয় দূরত্বের ঘাস,
অযত্নে বেড়ে ওঠা ভুল বোঝাবুঝির বন।
প্রকৃতি অপেক্ষা করতে জানে,
সে বারবার সংকেত পাঠায়
হঠাৎ বৃষ্টি, অকারণ হাওয়া,
অথবা মন খারাপের কোনো বিকেল।
কিন্তু উত্তর না পেলে
সে আর জোর করে না কিছুই।
নদী যেমন নিজের গতিপথ বদলে নেয়
শুকিয়ে যাওয়া খালকে আর খোঁজে না,
তেমনি সম্পর্কও একদিন
নিজের বাঁচার জন্য নীরবতাকে বেছে নেয়।
তখন স্মৃতিগুলো থাকে,
কিন্তু তারা আর পথ দেখায় না;
তারা শুধু মনে করিয়ে দেয়
কখনো এখানে আলো ছিল,
কখনো দু’জন মানুষ
একই আকাশের নিচে একই স্বপ্ন দেখত।
যোগাযোগ ছিল সেতু,
অদৃশ্য অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী;
তার ভাঙন চোখে দেখা যায় না,
কিন্তু ভাঙার শব্দে
ভিতরটা দীর্ঘদিন কেঁপে ওঠে।
যখন কেউ আর খোঁজ নেয় না,
প্রশ্নগুলো উত্তরহীন থেকে যায়,
আর প্রকৃতি তখন সিদ্ধান্ত নেয়
ফেরার রাস্তা খোলা রাখার আর কোনো মানে নেই।
কারণ প্রকৃতির নিয়ম বড় সরল-
যা বাঁচিয়ে রাখতে চাও, তাকে ছুঁয়ে থাকতে হয়,
যাকে হারাতে চাও, তাকে শুধু নীরব করে দাও।
শেষে দেখা যায়,
দূরত্ব আসলে সময় নয়, স্থান নয়,
দূরত্ব জন্ম নেয়
অকথিত কথার ভিড়ে।
আর তখন,
ফেরার ইচ্ছা থাকলেও
পথ থাকে না আর
কারণ যোগাযোগহীনতার দীর্ঘ শীতে
প্রকৃতি নিজেই লিখে দেয় শেষ অধ্যায়।

খাইরুল বাসার পলাশ 
























