ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তি মেলেনি হাজতির, বাবার লাশ দেখে কারাগারে ভেঙে পড়লেন ছেলে

blank

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় এক হাজতির বাবার মরদেহই আনা হয়েছে কারাগারে। 

 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই।

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। ফলে শেষবারের মতো বাবাকে দেখার জন্য ফুল মিয়া (৭০)-এর মরদেহ কারাগারে এনে মিলনের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

 

জানা গেছে, মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পরিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে। কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার লুটিয়ে পড়েছে। অনেক চেষ্টা করেও প্যারোলে মুক্তি করাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহই কারাগারে আনতে হলো— জীবনে এমন দৃশ্য আর দেখিনি।”

 

স্বজনদের ভাষ্য, সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ পান।

 

চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ এনে কারাগারে দাঁড়াতে হলো। এই সময়ে দাফন-কাফনের কাজে থাকার কথা ছিল, অথচ আদালত আর কারাগারে ছুটতে হচ্ছে।”

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন জানান, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

 

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

মুক্তি মেলেনি হাজতির, বাবার লাশ দেখে কারাগারে ভেঙে পড়লেন ছেলে

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় এক হাজতির বাবার মরদেহই আনা হয়েছে কারাগারে। 

 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই।

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। ফলে শেষবারের মতো বাবাকে দেখার জন্য ফুল মিয়া (৭০)-এর মরদেহ কারাগারে এনে মিলনের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

 

জানা গেছে, মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পরিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে। কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার লুটিয়ে পড়েছে। অনেক চেষ্টা করেও প্যারোলে মুক্তি করাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহই কারাগারে আনতে হলো— জীবনে এমন দৃশ্য আর দেখিনি।”

 

স্বজনদের ভাষ্য, সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ পান।

 

চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ এনে কারাগারে দাঁড়াতে হলো। এই সময়ে দাফন-কাফনের কাজে থাকার কথা ছিল, অথচ আদালত আর কারাগারে ছুটতে হচ্ছে।”

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন জানান, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

 

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”