ঢাকা শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিএনপি’র মৌন র‍্যালি

blank

দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) সংসদীয় আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী বাতিলের দাবিতে পাকেরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌন র‌্যালি। 

 

রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পাকেরহাট বাজার এলাকায় এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

 

অংশগ্রহণকারীরা জানান, ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়াকে বাতিল করে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে মনোনয়ন দিতে হবে।

 

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট আব্দুল হালিম এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তারা প্রার্থী নির্বাচনের গুরুত্ব, তৃণমূলের মতামত এবং আসন্ন নির্বাচনের বাস্তবতা নিয়ে বিশদ বক্তব্য প্রদান করেন।

 

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, দিনাজপুর-৪ বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে বছরের পর বছর যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে কাজ করেছেন, আন্দোলনে ছিলেন- মনোনয়ন তাদেরই হওয়া উচিত। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া স্থানীয়ভাবে ততটা গ্রহণযোগ্য নন। এমন প্রার্থী দিলে মাঠে ভোটারদের সাড়া পাওয়া কঠিন হবে। তৃণমূলের মতামত বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ করছি এই আসনের বাস্তবতা বিবেচনা করে এমন প্রার্থী দিন, যাকে মানুষ ভালোবাসে, চেনে এবং বিশ্বাস করে।

 

মনোনয়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির আজ সবচেয়ে বড় শক্তি তৃণমূল। তারা যদি হতাশ হয়, তাহলে নির্বাচনে সফল হওয়া কঠিন। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে অসন্তোষ স্পষ্ট। এই অসন্তোষ নিয়েই নির্বাচন করলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত জনগণের গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠের বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

 

তিনি আরও বলেন, খানসামা-চিরিরবন্দর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন এলাকা। যাকে ভোটাররা গ্রহণ করবে, তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে। ভুল সিদ্ধান্ত আসনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায় কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, তৃণমূল কর্মীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাদের পরামর্শ না নিয়ে মনোনয়ন দিলে তারা হতাশ হয়। এই আসনে যাদের জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন—মনোনয়ন তাদের প্রাপ্য। আক্তারুজ্জামান মিয়া স্থানীয়ভাবে সেই আস্থা তৈরি করতে পারেননি। তাই আমাদের দাবি পুনর্বিবেচনা করে একজন গ্রহণযোগ্য নেতাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হোক।

 

চিরিরবন্দরের বয়স্ক ভোটার আবদুল কাদের (৬৫) বলেন, বহু বছর ধরে আমরা রাজনীতি দেখি। ভুল সিদ্ধান্ত দিলে ভোটাররা সাড়া দেয় না। এলাকাবাসীর চাহিদা বিবেচনা করতেই হবে।

 

চিরিরবন্দরের আবুল হোসেন (৭০) বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জানাতে এসেছি যাকে মানুষ গ্রহণ ও বিশ্বাস করে, মনোনয়ন যেন তাকেই দেওয়া হয়।

 

মৌন র‌্যালিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কলাপাড়া বিএনপির আনন্দ মিছিল

মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিএনপি’র মৌন র‍্যালি

প্রকাশের সময় : ০৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
blank

দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) সংসদীয় আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী বাতিলের দাবিতে পাকেরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌন র‌্যালি। 

 

রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পাকেরহাট বাজার এলাকায় এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

 

অংশগ্রহণকারীরা জানান, ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়াকে বাতিল করে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে মনোনয়ন দিতে হবে।

 

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট আব্দুল হালিম এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তারা প্রার্থী নির্বাচনের গুরুত্ব, তৃণমূলের মতামত এবং আসন্ন নির্বাচনের বাস্তবতা নিয়ে বিশদ বক্তব্য প্রদান করেন।

 

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, দিনাজপুর-৪ বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে বছরের পর বছর যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে কাজ করেছেন, আন্দোলনে ছিলেন- মনোনয়ন তাদেরই হওয়া উচিত। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া স্থানীয়ভাবে ততটা গ্রহণযোগ্য নন। এমন প্রার্থী দিলে মাঠে ভোটারদের সাড়া পাওয়া কঠিন হবে। তৃণমূলের মতামত বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ করছি এই আসনের বাস্তবতা বিবেচনা করে এমন প্রার্থী দিন, যাকে মানুষ ভালোবাসে, চেনে এবং বিশ্বাস করে।

 

মনোনয়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির আজ সবচেয়ে বড় শক্তি তৃণমূল। তারা যদি হতাশ হয়, তাহলে নির্বাচনে সফল হওয়া কঠিন। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে অসন্তোষ স্পষ্ট। এই অসন্তোষ নিয়েই নির্বাচন করলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত জনগণের গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠের বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

 

তিনি আরও বলেন, খানসামা-চিরিরবন্দর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন এলাকা। যাকে ভোটাররা গ্রহণ করবে, তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে। ভুল সিদ্ধান্ত আসনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায় কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, তৃণমূল কর্মীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাদের পরামর্শ না নিয়ে মনোনয়ন দিলে তারা হতাশ হয়। এই আসনে যাদের জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন—মনোনয়ন তাদের প্রাপ্য। আক্তারুজ্জামান মিয়া স্থানীয়ভাবে সেই আস্থা তৈরি করতে পারেননি। তাই আমাদের দাবি পুনর্বিবেচনা করে একজন গ্রহণযোগ্য নেতাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হোক।

 

চিরিরবন্দরের বয়স্ক ভোটার আবদুল কাদের (৬৫) বলেন, বহু বছর ধরে আমরা রাজনীতি দেখি। ভুল সিদ্ধান্ত দিলে ভোটাররা সাড়া দেয় না। এলাকাবাসীর চাহিদা বিবেচনা করতেই হবে।

 

চিরিরবন্দরের আবুল হোসেন (৭০) বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জানাতে এসেছি যাকে মানুষ গ্রহণ ও বিশ্বাস করে, মনোনয়ন যেন তাকেই দেওয়া হয়।

 

মৌন র‌্যালিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।