দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার একটি চাঞ্চল্যকর ও দীর্ঘদিনের ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ৮ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে, গত ১৬ জানুয়ারি বীরগঞ্জ থানার মামলা নং-১২, তারিখ-১৩/১২/২০২৫ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০-এর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬)-কে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-০৬, খুলনার সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আবু বক্কর ওরফে বাদশার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার অন্যতম আসামি মোঃ শাহ আলম কল্লোল (৫৬)-কে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী এলাকায় নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেক আসামি মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১)-কে বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজশে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে ভাড়াটে খুনি চক্রকে দিনাজপুরে আনা হয়।
গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালীন অধিক লোকসমাগম থাকায় সেটিকে হত্যার জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পূর্বে সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি দানিউল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ ও হত্যার কৌশল নিয়ে একটি শর্ট ভিডিও তৈরি করে শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।
পরবর্তীতে, আবু বক্কর ওরফে বাদশা তার সহযোগী পেশাদার খুনি বাহিনীসহ দানিউল ইসলামের বাসার চাবি গ্রহণ করে এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোর রাতে দানিউল ইসলামকে নিজ শয়নকক্ষে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, নিহত দানিউল ইসলাম একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে তার মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত রহস্যজনক ও ক্লু-লেস। পরবর্তীতে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের বাড়ির সামনে একটি পুকুর থেকে বাসার তালার চাবি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—
১. মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬), পিতা: মোঃ মোতালেব শেখ, সাং: উৎকুল, থানা: বাগেরহাট সদর, জেলা: বাগেরহাট।
২. মোঃ শাহ আলম কল্লোল (৫৬), পিতা: মৃত আলহাজ রজব আলী মোল্লা, সাং: মহারাজা মোড়, উত্তর বালুবাড়ী, থানা: কোতয়ালী, জেলা: দিনাজপুর।
৩. মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), স্বামী: মৃত দানিউল ইসলাম, সাং: আরাজি চৌপুকুরিয়া, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর।

মোঃ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার 



















