ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলের তদবিরে প্রকৌশলীকে চেয়ার ছুড়ে মারার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

blank

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন অর রশিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম (মিনহাজ সাগর)-এর বিরুদ্ধে।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। একটি ঠিকাদারি কাজের বিল দ্রুত ছাড় করাকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

প্রকৌশল দপ্তর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঠিকাদার সাইফুল মুন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় চব্বিশ হল’-এর প্রভোস্ট কক্ষ ও অজুখানার বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ সম্পন্ন করেন। ওই কাজের বিল দ্রুত উত্তোলনের তদবির করতে বিকেলে সহকারী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদের কক্ষে যান ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ঠিকাদার সাইফুল মুন্সিও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, কক্ষে প্রবেশ করে মিনহাজুল বিল ছাড়ে দেরির কারণ জানতে চান এবং দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। জবাবে সহকারী প্রকৌশলী মামুন জানান, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিল প্রদান করা হবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিনহাজুল কক্ষে থাকা একটি চেয়ার তুলে মামুনকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।

ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে তিনি চেয়ারটি ঠেকিয়ে দিলেও পরে দরজার পাশে থাকা আরেকটি চেয়ার দিয়ে সহকারী প্রকৌশলীকে আঘাত করা হয়।

ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ বলেন, “ছাত্রদল নেতা মিনহাজ সাগর আজই বিল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী বিল প্রক্রিয়াকরণের কথা বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং যাওয়ার সময় হুমকিও দেন। ঘটনার পর আমি কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি শুধু ঠিকাদারের বিলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। দ্রুত বিল দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু প্রকৌশলী আমার পরিচয় জানতে চেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। এতে বিব্রত হয়ে আমি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি। চেয়ার ছোড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় খবর
blank

নাটোরে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ অবশেষে উদ্ধার

বিলের তদবিরে প্রকৌশলীকে চেয়ার ছুড়ে মারার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময় : ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
blank

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন অর রশিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম (মিনহাজ সাগর)-এর বিরুদ্ধে।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। একটি ঠিকাদারি কাজের বিল দ্রুত ছাড় করাকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

প্রকৌশল দপ্তর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঠিকাদার সাইফুল মুন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় চব্বিশ হল’-এর প্রভোস্ট কক্ষ ও অজুখানার বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ সম্পন্ন করেন। ওই কাজের বিল দ্রুত উত্তোলনের তদবির করতে বিকেলে সহকারী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদের কক্ষে যান ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ঠিকাদার সাইফুল মুন্সিও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, কক্ষে প্রবেশ করে মিনহাজুল বিল ছাড়ে দেরির কারণ জানতে চান এবং দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। জবাবে সহকারী প্রকৌশলী মামুন জানান, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিল প্রদান করা হবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিনহাজুল কক্ষে থাকা একটি চেয়ার তুলে মামুনকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।

ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে তিনি চেয়ারটি ঠেকিয়ে দিলেও পরে দরজার পাশে থাকা আরেকটি চেয়ার দিয়ে সহকারী প্রকৌশলীকে আঘাত করা হয়।

ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ বলেন, “ছাত্রদল নেতা মিনহাজ সাগর আজই বিল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী বিল প্রক্রিয়াকরণের কথা বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং যাওয়ার সময় হুমকিও দেন। ঘটনার পর আমি কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি শুধু ঠিকাদারের বিলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। দ্রুত বিল দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু প্রকৌশলী আমার পরিচয় জানতে চেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। এতে বিব্রত হয়ে আমি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি। চেয়ার ছোড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”